বালু লুটে বিপর্যস্ত ছড়া, ফসলি জমি
সিলেটের গোয়াইনঘাটে ফতেহপুর এলাকায় বালু উত্তোলনের ফলে মরতে বসা পাহাড়ি ছড়া সমকাল
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৪৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের একটি ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি মহলের বিরুদ্ধে। প্রভাবশালী মহলটি সাধারণের আপত্তি আমলে না নিয়ে জোর করেই কেটে নিচ্ছে ছড়া ও সংলগ্ন এলাকার কৃষিজমির মাটি।
দীর্ঘদিন ধরে এই চক্র ছড়া থেকে বালু উত্তোলন, তীরে মজুত ও বিক্রি করে আসছে। ক্ষমতার পরিবর্তনের পরেও চক্রের কর্মকাণ্ড বহাল থাকায় স্থানীয়রা বলছেন, বালু লুটেরাদের সঙ্গে সব চেয়ারেরই আঁতাত হয়ে যায়। তারা প্রকৃতি ধ্বংসে সেজন্যই এত বেপরোয়া।
চলমান পরিস্থিতির কারণে ছড়া ও এর তীরবর্তী বসতবাড়ি-জমি হুমকির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি ট্রাকে বালু বহনের কারণে নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ রাস্তা। স্থানীয়রা দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চান।
জানা গেছে, গুলনি চা বাগান এলাকা থেকে একটি ছড়া প্রবাহিত হয়ে কাপনা নদীতে গিয়ে মিলিত হয়েছে। ছয় থেকে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ ছড়াটি গুলনি, বড়গুল ও বিন্নাকান্দি গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। প্রতি মৌসুমে সেখানে থেকে বালু উত্তোলন করে আসছেন বড়গুল গ্রামের বাসিন্দা শামীম আহমদসহ কয়েকজন। জড়িতরা প্রভাবশালী হওয়ায় বাধা দিয়েও প্রতিকার পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা।
এলাকাবাসী জানান, বালু উত্তোলনের ফলে শুধু ছড়াই নয় কৃষি জমিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছড়ার প্রবাহ নষ্ট হওয়ায় কাপনা নদী বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া বসতবাড়ি নিয়ে অনেকে ঝুঁকির মুখে আছেন। গত বছর এই বালু উত্তোলন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
সম্প্রতি এলাকাবাসীর পক্ষে ভুক্তভোগী জমির মালিক সালেহা বেগম, জিয়াউর রহমান, ইমাম ফেরদৌস ডালিম, আলতাফুর রহমান, ইকবাল হোসেন, আমির আলী বালু উত্তোলন বন্ধে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। এতে তারা উল্লেখ করেছেন বড়গুল এলাকার বাসিন্দা শামিম আহমেদ, মুক্তার আহমদ, নাজিম উদ্দিন, ফাহিম আহমদ, রফিক উদ্দিনসহ কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে ছড়া থেকে প্রকাশ্যে বালু তুলে বিক্রি করছেন। ছড়া থেকে তোলা বালু রাখা হচ্ছে ছড়াসংলগ্ন কৃষি জমি বা চরে। এসব বালু বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রাক্টর ও ছোট ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়ায় গ্রামীণ রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছড়ার পাড়ের জমি ও বসতবাড়ি পড়েছে হুমকির মুখে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ছড়ার স্বাভাবিক প্রবাহ ও কাঠামো নষ্ট হচ্ছে। ছড়ার পাশের বাড়িঘর ও কৃষি জমি ভাঙনের মুখে পড়ছে। একই সঙ্গে প্রতিদিন বালু বোঝাই ট্রাক চলাচলের কারণে স্থানীয় রাস্তাঘাট দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ও মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। বালু বহনকারী ট্রাক চলাচলের জন্য বল প্রয়োগে বাগানের ওপর দিয়ে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে।
সালেহা বেগম বালু উত্তোলন বন্ধ, জোরপূর্বক জমি দখল ও চারা বাগান ধ্বংসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।
অভিযোগ বিষয়ে শামীম আহমেদ বলেন, গ্রামের ঈদগাহের জন্য ছড়ার কিছু অংশ থেকে বালু সংগ্রহ করা হচ্ছে। এতে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে না। বালু উত্তোলন বা বিক্রির সঙ্গে এককভাবে জড়িত নন তিনি। অভিযোগকারী নারীরও সেখানে কিছু জায়গা রয়েছে উল্লেখ করে শামীম বলেন, নিজের জায়গাতেই বালু রাখছেন। ওই নারীর জমি আশপাশে থাকায় সেখানে কিছুটা বালু পড়েছে। বালু সীমিত রাখতে পরে সেখানকার বালু গ্রামের ঈদগাহে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ফতেহপুর ইউপি চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বালু তুলে ট্রাকযোগে নেওয়ার কারণে গ্রামীণ ৮০ লাখ টাকার রাস্তা ক্ষতি হচ্ছে। ওই এলাকায় এত সচেতন মানুষ থাকার পরও কীভাবে গুটিকয়েক লোক বালু তুলছে, তা বোধগম্য হচ্ছে না। তিনি বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের প্রতি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
- বিষয় :
- বালুদস্যু
