ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে ২ হাজার বিঘা জমির ধান

বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে ২ হাজার বিঘা জমির ধান
×

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় কয়েক হাজার বিঘা জমির ফসল জলমগ্ন সমকাল

 হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৪৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার ইকরাম গ্রামের পার্শ্ববর্তী কয়েকটি হাওরে বৃষ্টি ও নদীর পানি উপচে পড়ছে। এতে এই এলাকার প্রায় ২ হাজার ২০০ বিঘা বোরো ধানের জমি তলিয়ে গেছে। ফলে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
এদিকে বাতাসর ও বালি হাওরে পানি ঢুকেছে। সেখানে আরও প্রায় ৭ হাজার বিঘা জমির ধান তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সোমবার দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টির পানি উপজেলার সুজাতপুর ইউনিয়নের রত্না নদীতে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। পরে নদী উপচে পানি উগলী হাওরে ঢুকলে এসব জমি তলিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। 
স্থানীয়রা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে বাঁধ উপচে উগলী, বাতাসর ও বালি হাওরে পানি ঢুকছে। উগলী হাওরে কয়েকশ কৃষকের দুই সহস্রাধিক বিঘা জমির ধান তলিয়ে যায়। এর মধ্যে বর্গা চাষি সিজিল মিয়ার ৩০ বিঘা, উজ্জ্বল মিয়ার ৩৫ বিঘা, সাজিদ মিয়ার ১০ বিঘা, আকল মিয়ার ১২০ বিঘা, আদম আলীর ১০ বিঘা ও আউয়াল মিয়ার ৫ বিঘা জমি তলিয়ে গিয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়াও শত শত কৃষকের জমির ধান একইভাবে তলিয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বৃষ্টি হলে এবং পানি এভাবে বাড়তে থাকলে বাতাসর ও বালি হাওরের আরও বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে। এতে আরও বিশাল এলাকাজুড়ে জমির ফসল নষ্ট হতে পারে জলাবদ্ধতায়।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, ধানের শীষ বের হওয়ার এ পর্যায়ে ধানক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় ফসল ঘরে তোলার আর কোনো সম্ভাবনা নেই। তারা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সিজিল মিয়া বলেন, উগলি হাওরে তার ৩০ বিঘা জমি ছিল। সব জমিই এখন পানির নিচে। একটি জমির ধানও কাটা সম্ভব হয়নি। 

ফলে বাকি যে কয়েক বিঘা জমি উপরিভাগে রয়েছে সেই জমিগুলো নিয়েও দুশ্চিন্তা বাড়ছে। কৃষক সাজিদ মিয়া বলেন, টাকা ধার এনে ১০ বিঘা জমি করেছিলেন উগলী হাওরে। চোখের সামনে তার সব শেষ হয়ে গেছে। সারাবছরের পরিশ্রমের ফসল তলিয়ে গেছে।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কর্মকর্তা ইকরাম হোসেন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাপ করা হচ্ছে। হাওরটি নিচু এলাকায় হওয়ায় বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে উঁচু এলাকা এখনও অক্ষত। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে সহায়তা দেওয়া হবে। 

আরও পড়ুন

×