ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মজুরি বন্ধ

চা শ্রমিকদের সহায়তায় এমপিপুত্র

চা শ্রমিকদের সহায়তায় এমপিপুত্র
×

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:২০

| প্রিন্ট সংস্করণ

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ সুরমা চা বাগানে টানা চার সপ্তাহ ধরে শ্রমিকদের মজুরি বন্ধ রয়েছে। এতে মানবিক সংকটের মুখে পড়েছেন সেখানকার চা শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।

এমন পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের প্রতি মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সলের ছেলে, সায়হাম নিট কম্পোজিটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ শাফকাত আহমেদ। সাময়িক বিপর্যয়ে থাকা শ্রমিকদের জন্য তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫০০ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন।

জানা গেছে, মজুরি বন্ধ থাকায় প্রায় ২ হাজার ২০০ শ্রমিক পরিবারসহ অভাব-অনটনের মধ্যে দিন পার করছেন। চা বাগানের শ্রমিকদের জীবন মূলত সপ্তাহভিত্তিক মজুরির ওপর নির্ভরশীল। 
প্রতি সপ্তাহ শেষে তারা যে মজুরি পান, তা দিয়েই কোনোভাবে সংসার চালান। গত চার সপ্তাহ ধরে মজুরি বন্ধ থাকায় তাদের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্দশা। অনেক পরিবারে খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। 
পুরো বাগান এলাকাতেও অচলাবস্থা বিরাজ করছে।
বাগানের শ্রমিক গোপেশ ভুমিজ জানান, আগে সপ্তাহ শেষে মজুরি পেলে পরিবার নিয়ে কিছুটা স্বস্তিতে থাকতে পারতেন। এখন সে সুযোগ নেই। কাজ বন্ধ, আয় বন্ধ। কীভাবে সংসার চালাবেন, বুঝতে পারছেন না। 

এই সহায়তার পাশাপাশি শ্রমিকদের বিশুদ্ধ পানির সমস্যা 
দূর করতে চারটি টিউবওয়েল স্থাপনের জন্য আলাদা ৪০ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছেন সৈয়দ শাফকাত আহমেদ।
চা শ্রমিক নেতা প্রদীপ কৈরি বলেন, হঠাৎ বাগানের এমন পরিস্থিতিতে সবাই বিপাকে পড়েছেন। তারা চান দ্রুত বাগান চালু হোক এবং শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য মজুরি ফিরে পাক। এই দুঃসময়ে এমপি সাহেবের ছেলের দেওয়া সহায়তা তাদের টিকে থাকার সহায়।

সৈয়দ শাফকাত আহমেদ বলেন, চা বাগানের শ্রমিকরা তাদের শ্রমের ওপর নির্ভর করেই জীবন যাপন করেন। তাই তাদের এ দুর্দশা দেখে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতার উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি বলেন, বাগানের সমস্যা দ্রুত সমাধান হওয়া জরুরি। এতে শ্রমিক ও মালিক উভয়েরই মঙ্গল হবে। শ্রমিকদের এই কঠিন সময়ে আমরা পাশে আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।
অন্যদিকে বাগান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তারা কাজ করে যাচ্ছে। বাগানের ব্যবস্থাপক বাবুল সরকার বলেন, শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করে দ্রুত বাগান চালু করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। 

আরও পড়ুন

×