ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

ধলাই নদীতে পলো বাওয়া উৎসব

ধলাই নদীতে পলো বাওয়া উৎসব
×

পলো বাওয়া উৎসব ছবি: সমকাল

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০১৯ | ০৩:২২ | আপডেট: ০৭ নভেম্বর ২০১৯ | ০৩:৩৬

কালের বিবর্তনে পাল্টে গেছে সবকিছু। কমে আসছে এক সময়কার চিরচেনা নদ-নদী, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড়ও। হারিয়ে যাচ্ছে একের পর এক বাঙালির গ্রামীণ উৎসব-ঐতিহ্য। 

একটি প্রবাদ আছে, ‘নদী হাওর আর ধান এই তিনে মৌলভীবাজারের প্রাণ।’ আর সেই মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীকে কেন্দ্র করে শত বছরেরও বেশি সময় ধরে পালিত হয়ে আসছে গ্রাম বাংলায় প্রায় হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরা উৎসব। 


এই মাছ ধরা উৎসব জানিয়ে দিচ্ছে মাছে-ভাতে বাঙালির দেশে মাছ হারিয়ে যায়নি। হারায়নি এক সময়ের বহুল প্রচলিত মাছ ধরার উৎসবও। প্রতিবছর এই সময়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সৌখিন মাছ শিকারিরা দল বেঁধে উৎসব মুখর পরিবেশে পলো বাওয়ায় অংগ্রহণ করেন। 

পলো বাওয়া উৎসব হলো দল বেঁধে (বাঁশ দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি ঝাঁপি) মাছ ধরা। কমলগঞ্জের ধলাই নদীতে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী পলো দিয়ে মাছ ধরার উৎসব উদযাপিত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ধলাই নদীতে এই মাছ ধরা শুরু হয়েছে। এতে প্রায় ৩ শতাধিক মাছ শিকারি অংশগ্রহণ করেন। কমলগঞ্জ পৌর এলাকার দক্ষিণ কুমড়াকাপন, আলেপুর, চন্ডিপুর, কুমড়াকাপনসহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষজন এতে অংশ নেন। 

স্বল্প পানিতে শখের বসে মাছ ধরার উপকরণ নিয়ে মাথা ও কোমরে আটসাট করে গামছা বেঁধে মাছ ধরার দৃশ্য চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে পলো, উড়াল জাল, পেলেন জাল এসব দিয়েই মাছ শিকার করছেন স্থানীয় জনগণ।


দলবদ্ধভাবে মাছ শিকারের এ দৃশ্য দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক জনতা। উৎসবে অংশ নেয়া শিকারিদের উৎসাহ দিতে হাতে তালি কিংবা জোড়ে জোড়ে চিৎকার করে উৎসাহ দিচ্ছেন দর্শনার্থীরা। বড়দের পাশাপাশি ছোট ছোট ছেলে মেয়েরাও যে যার মতো করে মাছ ধরতে সহযোগিতা করছে। 

সকাল থেকে  মাছ শিকারিরা দল বেঁধে সারিবদ্ধ হয়ে পলো দিয়ে পুটি, টেংড়া, শৈল, ঘাগট ও বোয়াল মাছ ধরছেন। পলো দিয়ে মাছ ধরার দৃশ্য সবারই মন কাড়ে। ৩০/৪০জনের একটি দল একদিকে জাল নিয়ে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। আর অন্য থেকে ৪০/৫০জনের সারিবদ্ধ দল পলো চাপিয়ে মাছ ধরতে সামনের দিকে এগিয়ে আসেন। 

পলো বাওয়া উৎসবে আলেপুর গ্রাম থেকে আসা নূর মিয়া বলেন, ‘বছরের এই দিনটার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি। সবাই মিলে একসাথে মাছ ধরার আনন্দটাই আলাদা। এক কেজি ওজনের একটি ঘাগট মাছ পেয়ে আরো বেশি আনন্দ লাগছে।’ 

কমলগঞ্জের প্রবীণ মাছ শিকারি মো. ইসমাইল মিয়া  জানান, দিন দিনই পরিবেশ ও আবহাওয়ার প্রতিকূলতার কারণে নদী-নালা, খাল-বিল, হাওরের তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে পানি হ্রাস এবং অধিকাংশ জলাশয় ইজারা দেওয়ায় পলো বাওয়া উৎসব এখন অনেকটাই ভাটা পড়েছে। আভাব অনটন ক্রমশ গ্রাস করে ফেলছে চিরাচরিত এই গ্রামীণ উৎসবের অতীত ঐতিহ্যকে। প্রাচীন এই উৎসবকে টিকিয়ে রাখতে সকলের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

×