ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষিকাকে ‘বুলিং’, জাকসুর দুই সদস্যের শাস্তি দাবি

শিক্ষিকাকে ‘বুলিং’, জাকসুর দুই সদস্যের শাস্তি দাবি
×

ফাইল ছবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ | ২১:৩৮

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধাকে উদ্দেশ করে সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলছেন, টেলিভিশন টকশোতে ড. স্নিগ্ধার একটি বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। বক্তব্যটি নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) দুই সদস্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে সাইবার স্পেসে ‘বুলিং’, ‘স্লাটশেমিং’ ও মানহানি করছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও তাদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

গত সোমবার জাকসু সদস্যদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জাকসুর সভাপতি অধ্যাপক কামরুল আহসানের কাছে স্মারকলিপি দেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। স্মারকলিপিতে জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক ও জাতীয় ছাত্রশক্তির সিনিয়র সহসভাপতি আহসান লাবিব, কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতি এবং শিক্ষার্থী আবু তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়ামের নাম উল্লেখ করা হয়।

শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে– অবিলম্বে মিথ্যা ও বিকৃত তথ্য প্রত্যাহার; প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা; জাকসুকে তাদের অবস্থান স্পষ্ট এবং ভবিষ্যতে সাইবার বুলিং ও অপপ্রচার রোধে কার্যকর নীতিমালা নিশ্চিত করতে হবে। 

শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেছেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট-১৯৭৩ অনুযায়ী প্রশাসনিক ক্ষমতা নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে ন্যস্ত। জাকসু বা এর কোনো সদস্যের এ ধরনের ব্যক্তিগত আক্রমণ বা প্রশাসনের ওপর অনৈতিক চাপ সৃষ্টির এখতিয়ার নেই। একে ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রাতিষ্ঠানিক সীমা লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন শিক্ষার্থীরা।
অভিযোগের বিষয়ে আহসান লাবিব বলেন, ‘সহযোগী অধ্যাপক স্নিগ্ধা রেজওয়ানা বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ নৃবিজ্ঞান বিভাগের আহ্বায়ক। বিভিন্ন টিভি টকশোতে তিনি আওয়ামী লীগের পক্ষে বয়ান উৎপাদন করেন। নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠনকে নিয়ে এভাবে বয়ান উৎপাদন করার বিরুদ্ধে আলোচনা-সমালোচনা করা কোনোভাবেই সাইবার বুলিং হতে পারে না। এটি অহেতুক অভিযোগ।’ 

এ বিষয়ে জাকসুর সহসভাপতি আব্দুর রশিদ জিতু সমকালকে বলেন, ‘রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য কাউকে অনলাইনে বুলিং করা সমর্থন করি না। কারও বিরুদ্ধে যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তাহলে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তা প্রশাসনকে জানানো উচিত।’ 

বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় ‘বুলিং’, ‘স্লাটশেমিং’ চর্চা ভয়াবহ একাডেমিক বিপর্যয়ের আভাস দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ড. স্নিগ্ধা। তিনি বলেন, সামাজিক মাধ্যমে এ ধরনের চর্চা ব্যক্তিকেন্দ্রিক হিসেবে দেখা ভীষণ ভুল হবে। এটি প্রক্রিয়াগত অবক্ষয়। এখানে প্রশাসনিক অদক্ষতাও রয়েছে। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ শিক্ষিতরা বসবাস করে। সেখানে এমন অযৌক্তিক, কুৎসিত কর্মকাণ্ড এক ভয়াবহ বার্তা দেয়। আজকে রাজনৈতিক বয়ান বন্ধ করে দেওয়া হলে আগামীকাল তা একাডেমিক কিংবা ব্যক্তিগত পর্যায়ে বয়ান বন্ধ করার দিকে ধাবিত হবে। বিষয়টি মৌখিকভাবে প্রশাসনকে জানিয়েছি, বাকিটা তারা দেখবে।

আরও পড়ুন

×