‘বাড়ি বানাইলাম, অহন থাকতাম পারি না’
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:৩৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
‘আমি গেরামে সবতে বেশি পরিশ্রম করতাম। পরিশ্রম কইরা বাড়ি বানাইলাম, জমি কিনলাম। এইসব কার লাইগা করলাম! অহন আমিই বাড়িত থাকতাম পারি না। জায়গা জমি লেইখা দেওনের লাইগা নিজের পোলারা অনেক খারাপ খারাপ গালি দিছে, মাইর খাইছি। জুতা দিয়াও মারছে। শেষে মাইরা বাড়ি থাইকা বাইর কইরা দিছে।’ কথাগুলো আব্দুল কাদিরের (৮০)। ছেলেরা বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ায় কিশোরগঞ্জের এই কৃষক এখন অন্যের বাড়িতে আশ্রিত।
আব্দুল কাদির সদর উপজেলার কর্শকড়িয়াইল ইউনিয়নের চিকনিরচর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্ত্রী জুমেলা খাতুনকে (৭২) নিয়ে জেলা শহরের মনিপুরঘাট এলাকায় অন্যের বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন। ছোট মেয়ে সখিনা আক্তার (৩০) দর্জির কাজ করে তাদের খরচ চালাচ্ছেন।
বুধবার মনিপুরঘাট এলাকায় কথা হয় আব্দুল কাদির ও তাঁর স্ত্রী জুমেলা খাতুনের সঙ্গে। এ দম্পতির চার ছেলে ও চার মেয়ে। তিন ছেলে তাজুল ইসলাম (৫৩), জালাল মিয়া (৪৮) ও নূর মোহাম্মদ (৪১) জমি লিখে দিতে বাবাকে চাপ দিয়ে আসছিলেন। বিভিন্ন সময় মারধরও করেছেন। চড়-থাপ্পড়, এমনকি জুতা দিয়েও পিটিয়েছেন। ২০২৩ সালের ১১ মে হামলার ঘটনায় মামলা করেন। কিন্তু প্রায় দুই বছর হতে চললেও এখন পর্যন্ত মামলাটি নিষ্পত্তি হয়নি।
বক্তব্য জানতে মামলার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদের মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার কল করলেও তিনি ধরেননি। কাঁদতে কাঁদতে মা জুমেলা খাতুন বললেন, ‘পোলাগুলিরে পেটে ধরলাম, বড় করলাম। জীবনে অনেক কষ্ট করছি। শেষ বয়সে হেই পোলারা মারতো! এমুন অপরাধই করলাম!’
- বিষয় :
- বাড়ি দখল