ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পৌরসভার ইটের রাস্তা তুলে গর্ত করেছেন জমি মালিক, দুর্ভোগ

পৌরসভার ইটের রাস্তা তুলে গর্ত করেছেন জমি মালিক, দুর্ভোগ
×

ঝিনাইদহ পৌরসভার বউবাজার এলাকার এই রাস্তাটি খোঁড়ায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে তোলা ছবি সমকাল

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬ | ০৯:০১

| প্রিন্ট সংস্করণ

ঝিনাইদহ শহরের ব্যাপারীপাড়া বউবাজার এলাকায় পৌরসভার করা ইটের রাস্তা এক্সক্যাভেটর (ভেকু) দিয়ে তুলে সেখানে গর্ত করার অভিযোগ উঠেছে জমি মালিকের বিরুদ্ধে। রাস্তার অভাবে দুর্ভোগে পড়েছেন মহল্লার ৩০টির বেশি পরিবারের সদস্যরা। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে একটি গণস্বাক্ষর-সংবলিত অভিযোগ পৌরসভায় দাখিল করা হলেও প্রতিকার মেলেনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শহরের বউবাজার এলাকায় এনায়েত উল্লাহ নয়ন ওরফে নয়ন হোসেনদের পৈতৃক ৭.৭৫ শতক জমি রয়েছে। জমির পশ্চিম পাশের প্রায় ৬ ফুট অংশ দীর্ঘ বছর ধরে যাতায়াতের পথ হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন মহল্লার বাসিন্দারা। অনেক বছর আগে পৌরসভা রাস্তাটি হেরিং (ইটের সলিং) করে দেয়। কিন্তু গত রমজান মাসে হঠাৎ ভেকু মেশিন দিয়ে সেই রাস্তার ইট তুলে সেখানে গর্ত করে জমির মালিকপক্ষ। ফলে ওই রাস্তায় মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে রাস্তায় হাঁটু পরিমাণ কাদা ও ময়লা আবর্জনা জমেছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিভিন্ন বাড়ির গলি ব্যবহার করে চলাচলে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

রাস্তা উপড়ে ফেলার ঘটনায় গত ২৫ মার্চ ওই মহল্লার ৩০ জন বাসিন্দার স্বাক্ষর-সংবলিত একটি অভিযোগ দেওয়া হয় পৌরসভায়। অভিযোগে বলা হয়, সেখানে ১৪-১৫ বছর আগে পৌরসভার পক্ষ থেকে একটি রাস্তা নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নয়ন মিয়া ওই রাস্তাটি তাঁর জমির ওপর দেওয়া হয়েছে দাবি করে পৌরসভাকে না জানিয়ে গত ১৭ মার্চ ভেকু দিয়ে ইট তুলে বড় গর্ত তৈরি করেছেন। এতে বাসিন্দাদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর পক্ষে অভিযোগে স্বাক্ষর করা শরিফুল ইসলাম বলেন, ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে এই রাস্তাটি ব্যবহার হচ্ছে। পৌরসভা পাকাও করে দিয়েছে ইট দিয়ে। কিন্তু হঠাৎ কাউকে কিছু না বলে সেই রাস্তাটি খুঁড়ে গর্ত করে দেন জমি মালিক। এতে আমরা খুবই সংকটে আছি। জমির মালিক হলেও দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা তিনি বন্ধ করতে পারেন না। আমরা চাই, এ বিষয়ে পৌরসভা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।
স্থানীয় বাসিন্দা ও দোকানি সুলাইমান হোসেন বলেন, অন্তত চলাচলের জন্য রাস্তাটি রাখা উচিত ছিল। এভাবে মানুষের চলাচলের রাস্তা জমির মালিক বন্ধ করে দিতে পারেন না। স্থানীয় ভাড়াটিয়া মোহাম্মদ স্বপন বলেন, রাস্তাটি ভেঙে ফেলায় মানুষের খুবই কষ্ট হচ্ছে। অনেকেই ইটের দেয়ালের ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন।
বক্তব্য জানতে জমির মালিক নয়ন হোসেনের ব্যক্তিগত নম্বরে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি। ওই জমিতে টাঙিয়ে রাখা জমি বিক্রির সাইনবোর্ডে পাওয়া নম্বরে কল করা হলে নয়নের চাচাতো ভাই আলমগীর হোসেন চুন্নু বলেন, ‘এতদিন আমরা জানতাম না ওখানে রাস্তা হয়েছে। পৌরসভা থেকে আমিন এনে জমি মেপে রাস্তা উঠিয়ে দিয়েছি। আমাদের জমি তাই এটা করেছি। যখন বাড়ি করব তখন পৌরসভার নিয়ম অনুসারে রাস্তা দেব।’ কাউকে না জানিয়ে বাসিন্দাদের দুর্ভোগ সৃষ্টি করে কেন রাস্তা খুঁড়ে দেওয়া হলো এমন প্রশ্নের জবাব দেননি তিনি।
অনেক বছর আগে পৌরসভার করে দেওয়া রাস্তাটি তুলে ফেলা ঠিক হয়নি বলে মনে করেন ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রশাসক রথীন্দ্রনাথ রায়। তিনি বলেন, রাস্তা খুঁড়ে ফেলার বিষয়ে স্থানীয়দের একটি অভিযোগ পেয়েছি। সে অনুসারে নয়নকে নোটিশ করা হয়েছিল। তিনি নোটিশের জবাব দিয়েছেন। ওই জায়গা পরিদর্শনে প্রকৌশলী পাঠানো হয়েছে। তিনি বিস্তারিত জানালে পৌরসভা প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
 

আরও পড়ুন

×