দুধকুমারে অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন, ঝুঁকিতে সেতু-বাঁধ
কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীর দুধকুমার নদের দ্বিতীয় সোনাহাট সেতুর অদূরে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। গত বুধবার তোলা সমকাল
নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৪৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর দুধকুমার নদে অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে একটি প্রভাবশালী মহল। এতে নির্মাণাধীন দ্বিতীয় সোনাহাট সেতু ও নদীর তীর রক্ষা বাঁধসহ বিপুল ফসলি জমি ও বসতঘর ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে দুধকুমার নদে দুটি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছেন উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের জনৈক মাসুদ রানা। ড্রেজার মেশিনের অদূরেই চলছে দ্বিতীয় সোনাহাট সেতুর নির্মাণকাজ। এছাড়া রয়েছে পুরাতন সোনাহাট রেলসেতু। যে সেতু দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ চলাচলের পাশাপাশি সোনাহাট স্থলবন্দর থেকে মালপত্র আনা-নেওয়া করেন ব্যবসায়ীরা। নদের তীরে রয়েছে অনেক ফসলি জমি, বসতভিটা ও পাকা-আধাপাকা স্থায়ী স্থাপনা। বালু উত্তোলনের ফলে এ সবকিছুর পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তীর রক্ষা বাঁধ ঝুঁকিতে পড়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে আগামী বন্যায় নদে তীব্র ভাঙন দেখা দিতে পারে। এতে দুটি সেতু ও পাউবোর তীর রক্ষা বাঁধ ধসে কিংবা ভেঙে ভেসে যেতে পারে।
পার ভেঙে নদে বিলীন হয়ে যেতে পারে বিপুল বসতঘর ও ফসলি জমি।
স্থানীয় বাসিন্দা করিম, মাহবুব ও মোজাফফর জানান, সোনাহাট সেতুর পশ্চিম-দক্ষিণ প্রান্তে পাউবো ব্লক ফেলে দুধকুমার নদের ভাঙন প্রতিরোধে তীর রক্ষা বাঁধ তৈরি করেছে। অথচ তীরসংলগ্ন এসব ব্লকের পাশে ও নদের পূর্ব পাশে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছেন বালু ব্যবসায়ী মাসুদ রানা। এতে পাউবোর ব্লকগুলোর স্থানচ্যুতি ঘটে নদীর তীর রক্ষা বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শুধু সেতু কিংবা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ নয়, এতে ঝুঁকিতে পড়েছে তীরবর্তী বাসিন্দাদের বসতভিটা, ফসলি জমি। এসবের তোয়াক্কা না করে চলছে বালু উত্তোলন। ড্রেজার বন্ধে অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
অভিযোগ প্রসঙ্গে মাসুদ রানা বলেন, দ্বিতীয় সোনাহাট সেতু নির্মাণে কাজ করা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এম বিল্ডাসের্র প্রকল্প ব্যবস্থাপক (পিএম) তাঁকে নদ থেকে বালু তুলতে বলেছেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই বালু দিয়ে সেতুর সংযোগ সড়ক তৈরি করছে। এ কারণে তিনি বালু তুলছেন। তিনি ড্রেজার মেশিনে বালু তুলে অন্য কোথাও বিক্রি করছেন না।
এ বিষয়ে এম এম বিল্ডাসের্র প্রকল্প ব্যবস্থাপক (পিএম) শামীম আহমেদ বলেন, ‘আমরা সেতু নির্মাণের বালুর কাজ সাব কন্ট্রাকে দিয়েছি। কাউকে দুধকুমার নদ থেকে বালু তোলার জন্য বলা হয়নি। আমরা এমন ধরনের নির্দেশনা দিতেও পারি না।’
পাইকেরছড়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক সরকার বলেন, নদ থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু তোলার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। সেখানে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের অনুমতি আছে কিনা এমন প্রশ্ন শুনে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন বলেন, দুধকুমার নদ থেকে বালু তুলে দ্বিতীয় সোনাহাট সেতু প্রকল্পে সরবরাহের বিষয়টি তাঁর জানা নেই। এ বিষয়ে খোঁজ খবর নেবেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহাদাৎ হোসেন বলেন, বিষয়টি তিনি জেনেছেন। দুধকুমার নদ থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধে শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- ড্রেজার
