ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে অযত্নে ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স, সেবাবঞ্চিত চরের মানুষ

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে অযত্নে ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স, সেবাবঞ্চিত চরের মানুষ
×

পাবনার বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে অযত্নে পড়ে থাকা ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স সমকাল

জালাল উদ্দিন, সাঁথিয়া (পাবনা)

প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৪৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

পাবনার বেড়া উপজেলার নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রায় এক যুগ আগে সরকার একটি ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করেছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অ্যাম্বুলেন্সটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এর ইঞ্জিনসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ উধাও হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তবে ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সটি কখনই চরাঞ্চলের মানুষের কাজে আসেনি।
মানুষের জীবন রক্ষার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ পরিকল্পনার অভাব ও তদারকির ঘাটতির কারণে শুরু থেকেই অকার্যকর হয়ে গেছে। ফলে চরাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ জরুরি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে পরিচালক (ভান্ডার ও সরবরাহ) কেন্দ্রীয় ঔষধাগার ঢাকা থেকে একটি ওয়ান বেড ক্লিনিক বোট (ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স) বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেওয়া হয়। কিন্তু সে সময়ে হাসপাতালে ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সটি রাখার ব্যবস্থা না থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্সটি প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে নদীতে রেখে দেয়। জনবল সংকটে অ্যাম্বুলেন্সটির তদারকির জন্য ওই স্থানে স্থায়ী কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে দায়িত্ব প্রদান করা সম্ভব হয়নি। অবহেলায় পড়ে থাকা অ্যাম্বুলেন্সটি এক সময় কে বা কারা নদীতে ডুবিয়ে দেয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়া অ্যাম্বুলেন্সটি পরে মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
২০১৭ সালে তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আইয়ুব হোসেন জনস্বার্থে অ্যাম্বুলেন্সটি অন্য কোনো উপজেলায় স্থানান্তরের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বরাবর একটি পত্র পাঠান। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে পরে এ ব্যাপারে কোনো সাড়া মেলেনি বলে জানা যায়।
চরবাসীর ভাষ্য, ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স চালু থাকলে নদীপথে দুর্ঘটনা কিংবা হঠাৎ অসুস্থতার সময় অনেক মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হতো। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের নদীপথে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার যে লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি চালু করা হয়েছিল, তা বাস্তবে কোনো সুফল বয়ে আনতে পারেনি। চরাঞ্চলের মানুষের কথা বিবেচনা করে দ্রুত ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সটি চালুর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বেড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পদ্মা ও যমুনা নদীর চরাঞ্চল দিয়ে ঘেরা। এসব এলাকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেকটাই নৌপথ নির্ভর। বর্ষা মৌসুমে অনেক গ্রাম কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। গুরুতর অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে নৌকা বা ট্রলারের ওপর নির্ভর করতে হয়। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সরকার নদীপথে রোগী পরিবহনের জন্য ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স চালুর উদ্যোগ নেয়। পরিকল্পনা ছিল চরাঞ্চল থেকে অসুস্থ মানুষকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কিংবা জেলা শহরে পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু শুরু থেকেই ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সটি অকার্যকর অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
চরনাগদাহর বাসিন্দা ইউছুব আলী মোল্লা বলেন, ‘সরকার যদি ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করত, তাহলে চরাঞ্চলের রোগী দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া যেত। অনেক রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব হতো। কিন্তু কোনোদিন অ্যাম্বুলেন্সটি চলতে দেখিনি। এখনও আমাদের নৌকাতেই রোগী নিতে হয়।’
বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাহমিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সটি ২০১৩ সালে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসে। তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কী কারণে এটি চালু করতে পারেননি, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কারণ জানা নেই। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অ্যাম্বুলেন্সটি এভাবেই অচল অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখছি।’
বেড়া উপজেলা ইউএনও রুনাল্ট চাকমা বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাম্বুলেন্সটি কী কারণে দীর্ঘদিন অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে, সেটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
 

আরও পড়ুন

×