একাধিক নারীকে মারধর, কথিত মেয়র প্রার্থী গ্রেপ্তার
আফতাব উদ্দিন ভূঁইয়া
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | ০৫:১২
লক্ষ্মীপুরে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে একাধিক নারীকে মারধর করেছিলেন আফতাব উদ্দিন ভূঁইয়া ওরফে সোহাগ (৪০) নামের এক ব্যক্তি। এমন একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ তাঁকে আটক করেছে। এক ভুক্তভোগীর মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আফতাবকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাহাপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের পরিবারের ওপর ৯ এপ্রিল হামলার ঘটনাটি ঘটে। ওই পরিবারের ওপর আফতাবের অনুসারীরা একাধিকবার হামলা করেছে বলে এলাকাবাসী জানান। আফতাব দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন।
সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল ভিডিওতে আফতাব উদ্দিনকে একের পর এক নারীকে চুল ধরে টেনে কিলঘুসি মারতে দেখা যায়। ভুক্তভোগী নারীরা চিৎকার করলেও তিনি থামেননি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সাহাপুর গ্রামের মৃত ছিদ্দিক উল্যার ছেলে আফতাব একসময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। ছাত্র সংগঠনটির ১ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি পদেও ছিলেন। সম্প্রতি মেয়র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়ে আফতাব এলাকায় পোস্টার সাঁটিয়েছেন। কিছু বিলবোর্ডও দেখা গেছে।
সাহাপুর এলাকার চানগাজী হাওলাদারের বাড়ির ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে জমিসংক্রান্ত বিষয়ে আফতাব উদ্দিনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুরোনো বিরোধের জেরে ৯ এপ্রিল আফতাবের নেতৃত্বে তাঁর পরিবারের সদস্যরা ইসমাইলের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় নারী সদস্যদের ওপর হামলা করা হয়। এতে আহত কয়েকজন লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরদিনও একই পরিবারের ওপর হামলা হয়।
এ ঘটনায় ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী ফারহানা আক্তার (৩৫) বাদী হয়ে শনিবার লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় মামলা করেন। এতে আফতাবসহ সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন— মাহাতাব (৪৫), মো. আবির (২০), আরজু আক্তার (৩৫), হালিমা বেগম (৬০), অহিদা আক্তার (৫০) ও মো. শাকিল (৩৫)।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, ‘ভিডিওটি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে আমরা তদন্ত শুরু করি। প্রধান আসামি আফতাবকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন-অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী জানান, ভাইরাল ভিডিওটিতে আসামিকে নারীদের মারধর করতে দেখা গেছে। নারীর প্রতি সহিংসতার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
- বিষয় :
- লক্ষ্মীপুর
- গ্রেপ্তার
- মেয়র প্রার্থী
