স্বামী বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন, জানেন না আয়েশা
আব্দুর রহমান, টেকনাফ (কক্সবাজার)
প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:১২ | আপডেট: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:১৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
আয়েশা বেগম তিন সন্তানের জননী। তিনি আবারও মা হওয়ার অপেক্ষায়। এদিকে তাঁর স্বামী বেলাল মিয়া নিখোঁজ ১২ দিন। আন্দামান সাগরে মালয়েশিয়াগামী একটি ট্রলারডুবির খবর পাওয়ার পর থেকে আয়েশার কান্না থামছে না। স্বামী বেঁচে আছেন, নাকি সাগরের ঢেউয়ের তোড়ে হারিয়ে গেছেন– জানেন না তিনি।
শুধু আয়েশা নন, কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত এলাকার এমন শতাধিক পরিবারে মাতম চলছে। নিখোঁজ স্বজনের খোঁজে তারা ছুটছেন থানা, জনপ্রতিনিধির দ্বারে দ্বারে। অনেকেই নিশ্চিত, ডুবে যাওয়া ওই ট্রলারেই ছিলেন তাদের প্রিয়জন। কিন্তু তারা বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন– সেই প্রশ্নের উত্তর পাচ্ছেন না কারও কাছে।
গত শনিবার কোস্টগার্ড সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, চট্টগ্রাম থেকে ইন্দোনেশিয়াগামী বাংলাদেশি পতাকাবাহী ‘মেঘনা প্রাইড’ নামের জাহাজ ৯ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি গভীর সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় ৯ জনকে উদ্ধার করে। পরে তাদের কোস্টগার্ডের টহল জাহাজ মনসুর আলীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। কোস্টগার্ড মামলা করে তাদের টেকনাফ থানায় সোপর্দ করলে নিখোঁজদের স্বজনরা উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা বলছেন, গত ৪ এপ্রিল কক্সবাজারের ইনানী, টেকনাফের নোয়াখালী ও রাজারছড়া এলাকা থেকে ছোট ছোট নৌকায় করে তাদের একটি বড় ট্রলারে তোলা হয়। আড়াই শতাধিক যাত্রী নিয়ে ট্রলারটি মালয়েশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করে। আট দিনের মাথায় আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে পৌঁছালে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়।
গতকাল বিকেলে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নেঙ্গুলবির গ্রামের এক ঘরের দরজায় বসে বিলাপ করছিলেন বেলাল মিয়ার স্ত্রী আয়েশা বেগম। পাশে বসে ছিল তাঁর শিশুসন্তান মোহাম্মদ শামী, মো. ইসমাইল ও হামিম। আয়েশা বলেন, ‘আমার স্বামী কৃষক। পান চাষ করে আমাদের সংসার চলত। কিন্তু এলাকার দালালদের প্রলোভনে পড়ে কয়েক দিন আগে হঠাৎ ফোন করে বলে, আমি বোটে উঠছি। তারপর থেকে তার আর খোঁজ নেই।’
ট্রলারডুবির খবর ছড়িয়ে পড়তেই ছেলের খোঁজে থানা প্রাঙ্গণে ছুটে আসেন মোহাম্মদ ইলিয়াছ। উৎকণ্ঠা আর শঙ্কায় কাঁপা কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে আনোয়ার সাদেক এলাকার এক দালালের খপ্পরে পড়ে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করে। শাকের মাঝি নামে এক দালাল তাকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ নেই।’
ট্রলারডুবির ঘটনায় দালাল, টেকনাফের শাকের মাঝি, হায়দার আলী, আব্দুল আমিন, সৈয়দ উল্লাহ, মো. ইব্রাহীম, আজিজুল হক, মোহাম্মদ উল্লাহ, মোজাহের মিয়া ওরফে গোরামিয়া, সায়াদ আলমসহ অনেকের নাম আসছে। তারা আত্মগোপনে চলে গেছে।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, ট্রলারডুবির পর এলাকা থেকে কিছু দালালের নাম পাওয়া যাচ্ছে। পুলিশ তাদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে।
- বিষয় :
- ট্রলারডুবি
