বৈশাখী মেলা কেন্দ্র করে ব্যস্ততা কুমারপাড়ায়
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:৫৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলা নববর্ষ ও বৈশাখী মেলাকে কেন্দ্র করে কুলাউড়া উপজেলার কুমারপাড়াতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। কুমারপাড়ার ঘরে ঘরে পুতুল, হাতি, ঘোড়াসহ নানা বৈশাখী উপকরণ তৈরি করা হচ্ছে। নতুন বছরকে বরণ করে নিতে গ্রামীণ ও লোকজ সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে এসব তৈজসপত্র ও খেলনা মেলায় বিক্রির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
বৈশাখী মেলাকেন্দ্রিক এই কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে কুমারেরা বাড়তি আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কুমারপাড়ায় মাটির সংকট ও কারিগরের অভাবে এই পেশা অস্তিত্ব সংকটে থাকলেও বৈশাখ উপলক্ষে নতুন করে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন তারা।
গত রোববার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কর্মধা ইউনিয়নের মনসুরপুর গ্রামের কুমারবাড়িতে কুমাররা মাটি দিয়ে তৈরি করছে হাঁড়ি, দই, পিঠার খোলা, মাছ ধোয়ার পাতিলসহ বিভিন্ন ধরনের টেপা পুতুল। কারিগররা মাটি প্রস্তুত করে বিভিন্ন ধরনের জিনিস তৈরি করে রোদে শুকিয়ে আগুনে পুড়িয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
কুমারপাড়ার বাসিন্দা হরেন্দ্র রুদ্র পাল, অরুণ রুদ্র পাল, অপেন্দ্র রুদ্র পাল, নীলা রানী রুদ্র পাল ও লিপি রানী পাল জানান, বৈশাখী মেলায় বিক্রির জন্য কুমাররা মাটি দিয়ে নানা ধরনের জিনিস তৈরি করেন। যদিও আধুনিকতার ছোঁয়ায় প্লাস্টিক, মেলামাইন ও স্টিলের দাপটে প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো এই ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। বর্তমানে সম্প্রদায়ের প্রায় ৩০টি পরিবার এই পেশার সঙ্গে জড়িত। নানা সমস্যায় তারা পৈতৃক পেশা আর ধরে রাখতে পারছে না। নতুন প্রজন্ম অন্যান্য কাজে ঝুঁকে পড়ছে।
কুলাউড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা প্রণেশ চন্দ্র বর্মা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে সর্বদায় সাহায্য সহযোগিতা করা হচ্ছে। বিশেষ করে কুমার, কামার, তাঁতি এসব অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর ভাতা চালু রয়েছে।
লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাজহারুল ইসলাম বলেন, বাঙালি মাটিঘনিষ্ঠ জাতি। মাটির তৈজসপত্র ও বাহারি জিনিসপত্রকে আবারও দৈনন্দিন জীবনে ধারণ করা একান্ত জরুরি। মৃৎশিল্পীদের বাঁচাতে ও নিজেদের জাতিসত্তা ধরে রাখতে সরকারী ও বেসরকারি উদ্যোগে মৃৎশিল্পীদের পাশে থাকতে হবে।
এ বিষয়ে লংলা ডিগ্রি কলেজের কৃষি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হেলাল খান বলেন, প্রাচীনকালে এ দেশে বসবাসকারী অন্যতম জনগোষ্ঠী হলো কুমার। কিন্তু আধুনিক কলকারখানা ও তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কুমোরদের পেশা আজ বিলুপ্ত প্রায়। এ সম্প্রদায়ের প্রতি সরকার ও প্রশাসনের সুদৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।
- বিষয় :
- বৈশাখী মেলা
