ভিডিও কলে মেয়েকে দেখে নাম রাখলেন প্রবাসী বাবা
বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নবজাতককে নিয়ে মনিকা বেগম
এস এম কাওসার, বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ | ১৭:৫৬
অভাব অনটন যেন তাদের নিত্য সঙ্গী। এর মধ্যে জন্ম তৃতীয় সন্তানের। তারপরও খুশি মনিকা- লিটন মিয়া দম্পতি। সন্তানের আগমনে ভুলে গেছেন নিজেদের কষ্টের কথা। নবজাতক মেয়েকে নিয়ে মেতে উঠেছেন আনন্দে। সদ্যোজাতর নাম রেখেছেন মাবিয়া আক্তার।
মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখের প্রথম প্রহরে সকাল ৮ টা ১৫ মিনিটে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে গাইনি বিভাগে শিশুটি স্বাভাবিকভাবে জন্ম নেয়। সে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার সুখানপুকুরের চকরাদিয়া গ্রামের মনিকা বেগম ও লিটন মিয়ার মেয়ে। নবজাতকের বাবা লিটন মিয়া মালয়েশিয়া প্রবাসী। শিশুটির জন্ম হওয়ার আধঘন্টা পর ভিডিও কলে মেয়ের বাবাকে মেয়ের জন্মের খবর জানানো হয়। তিনি খুশি হয়ে মেয়ের নাম রাখেন মাবিয়া।
মনিকা বেগম জানান, তাদের আরও দুটি সন্তান রয়েছে ,তার মধ্যে একজন ছেলে ও একজন মেয়ে। বড় ছেলে মনির হোসেনের বয়স ৮ বছর। দ্বিতীয় সন্তান নুসরাতের বয়স ৪ বছর। তিনি আরও জানান, সোমবার রাত ৯টার দিকে তার প্রচণ্ড ব্যথা উঠে। পরে ২২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তাকে দ্রুত হাসপাতালে আনা হয়। সারারাত ব্যথায় কষ্ট পেয়েছেন। তবে সকালে সন্তানের জন্মের পর তার মুখ দেখে ব্যথা নিমেষেই উধাও গেছে।
মনিকা বলেন, মেয়ের বাবা আগে থেকে নাম ঠিক করে রেখেছিল । মেয়ে হলে মাবিয়া আর ছেলে হলে মাইনুর হোসেন রাখতে বলেছিলেন। কবে বাচ্চা হবে তা জানতাম না। কোন রকম প্রস্তুতিও ছিলনা। তিনি আরও বলেন, আমি ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছি। মেয়েকে নার্স বানাবো এটা আমার স্বপ্ন।
নবজাতক মাবিয়ার নানী রাজিয়া খাতুন জানান, মেয়েজামাই অনেক ধার দেনা করে এবং একটি ইজিবাইক বিক্রি করে কয়েক মাস আগে বিদেশে গেছেন। কিন্তু অবৈধভাবে যাওয়ায় কোন কাজ পাচ্ছেন না। বাড়িতে টাকা পাঠাতে ও পারছে না। খুব কষ্টে মেয়ের সংসার চলছে। তার মধ্যেও ফুটফুটে সন্তান ঘরে আসায় তারা সবাই খুশি। তিনি আরও জানান, নরমাল ডেলিভারি না হলে তারা বিপদেই পরতেন।
হাসপাতালের গাইনি বিভাগের চিকিৎসক মোস্তারিন চৌধুরী থিটার তত্ত্বাবধানে এবং নার্সের ইনচার্জ মঞ্জুয়ারা বেগমের সহায়তায় নরমালভাবে সন্তান প্রসব করেন মনিকা।
হাসপাতালে নার্সের ইনচার্জ মঞ্জুয়ারা বেগম বলেন, বাংলা নববর্ষের দিনে গরীবের ঘরে সুন্দর রানি এসেছে। আমরাও খুশি । আগে থেকে জানা ছিল না কবে বাচ্চা হবে। আমাদের কাছে কিছুদিন আগে আসার পর বলেছিলাম ১৫-২০দিন লাগতে পারে।
গাইনি বিভাগের চিকিৎসক ডা,মোস্তারিন চৌধুর থিটা বলেন,কয়েকদিন আগে প্রসুতিকে বলেছিলাম ব্যথা ওঠলে নিয়ে আসতে। সিজার করার প্রয়োজন হলে বিনা খরচের সিজার করা হবে। তখন তারা অনেকটা স্বস্তি ফিরে পায়। সোমবার রাতে দেখেই নার্সদের বলেছিলাম এটা নরমাল ডেলিভারি হওয়ার সম্ভাবনা ৮০ ভাগ। হয়েছেও তাই ,সিজার করতে হয়নি। আমরা প্রসুতিকে স্বাস্থ্য সচেতন করে দিয়েছি । কীভাবে বাচ্চা লালন পালন করবে সে ব্যাপারেও জানানো হয়েছে।
মনিকা বেগম বলেন ,কোথায় কিভাবে পহেলা বৈশাখ পালন করা হচ্ছে তা আমার জানা নেই। আমার আদরের সোনামনিই আমার সব আনন্দ। তিনি বলেন, ওর বাবা থাকলে আগে নতুন জামা কিনে দিতেন। আপাতত আমার সেই সাধ্য নেই।
মনিকার বাবা মজনু মিয়া বলেন ,মনিকাকে ৯ বছর আগে বিয়ে দিয়েছি। জামাই ইজিবাইক চালাতো। আমি সামান্য সবজি ব্যবসায়ী । ভাড়ে করে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করে কোন মতে সংসার চালাই। আমার স্ত্রী অন্যের বাসায় ঝিয়ের কাজ করেন। জামাই ৬ লাখ টাকা ধার দেনা করে বিদেশ গেছেন কিন্তু কোন কাজ যোগার করতে পারছেনা। মনিকা দুই সন্তান নিয়ে কষ্টে জীবন যাপন করছে। আমি কিছু সহায়তা করি।
মনিকা জানান, তার বড় ছেলে প্রতিবন্ধী। টাকার অভাবে ছেলের চিকিৎসা করাতে পারছেন না। চিকিৎসা করালে ছেলেটা সুস্থ হয়ে যাবে বলেছেন চিকিৎসকরা।
- বিষয় :
- প্রজন্মবরন ১৪৩৩
