ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

গ্রিসে পাঠানোর নামে প্রতারণা, লিবিয়ায় নির্যাতন দুই যুবককে

গ্রিসে পাঠানোর নামে প্রতারণা, লিবিয়ায় নির্যাতন দুই যুবককে
×

দালালের খপ্পরে প্রতারিত তাড়াশ উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের মো. শিহাব উদ্দিন ও মো. হাবিবুর রহমান

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | ১৮:৩১

বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ২৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর লিবিয়ায় আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার দুই যুবক। পরে পরিবার থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। সব হারিয়ে অবশেষে প্রাণ নিয়ে দেশে ফিরেছেন তারা।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের বিনসাড়া গ্রামে। ভুক্তভোগী মো. শিহাব উদ্দিন পেঙ্গুয়ারি গ্রামের এবং মো. হাবিবুর রহমান বিনসাড়া গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত আদম বেপারী মো. জাহাঙ্গীর আলম ও তাঁর পুত্রবধূ মোছা. জলি খাতুন একই গ্রামের বাসিন্দা। 

ভুক্তভোগীরা জানান, জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মো. জাকারিয়া হোসেন গ্রিসে থাকেন। সেখানে পাঠানোর কথা বলে গত ফেব্রুয়ারির শুরুতে তাদের সঙ্গে চুক্তি করেন জাহাঙ্গীর আলম ও জলি খাতুন। পরে দুই দফায় তাদের কাছ থেকে মোট ২৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়। গত ৭ মার্চ তাদের ঢাকার বিমানবন্দর থেকে লিবিয়ার বেনগাজি পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর স্থানীয় কিছু ব্যক্তি তাদের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে একটি কক্ষে প্রায় ৪০ জনের সঙ্গে আটকে রাখে।

এরপর প্রায় ২০ দিন ধরে তাদের ওপর চলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। খাবারও দেওয়া হতো অপ্রতুল। একপর্যায়ে জনপ্রতি ১০ লাখ টাকা দাবি করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা হুন্ডির মাধ্যমে জনপ্রতি ৭ লাখ টাকা পাঠালে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে লিবিয়ায় অবস্থানরত জলি খাতুনের আত্মীয়ের সহায়তায় আরও ১ লাখ টাকা খরচ করে তারা দেশে ফিরে আসেন। গত ৫ এপ্রিল তারা কোনোমতে জীবন নিয়ে বাংলাদেশে ফেরেন।

প্রতারিত যুবক শিহাব উদ্দিন ১২ এপ্রিল তাড়াশ থানায় জাহাঙ্গীর আলম ও জলি খাতুনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান।

এদিকে মোছা. জলি খাতুন মোবাইল ফোনে স্বীকার করেন যে, তিনি ৪ লাখ এবং তাঁর শ্বশুর ১ লাখ টাকা নিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, সরাসরি গ্রিসে পাঠানো সম্ভব না হওয়ায় প্রথমে লিবিয়ায় পাঠানো হয়েছিল। তবে প্রত্যাশিত কাজ না পেয়ে তারা ফিরে এসেছেন।

তাড়াশ থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


 

আরও পড়ুন

×