ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

অবৈধ বাঁধে ডুবেছে ৫ হাজার বিঘা জমির ধান

হাজারবিঘী বিলে কৃষকদের মানববন্ধন

অবৈধ বাঁধে ডুবেছে ৫ হাজার বিঘা জমির ধান
×

নাচোল উপজেলার হাজারবিঘী বিলের ধারে কৃষকদের মানববন্ধন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ | ২০:৩৯ | আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ | ২০:৪০

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল ও গোমস্তাপুর উপজেলার হাজারবিঘী বিলে অবৈধ বাঁধ নির্মাণের কারণে প্রায় পাঁচ হাজার বিঘা জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আগামী বর্ষা মৌসুমেও একই আশঙ্কায় বাঁধ অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

শুক্রবার দুপুরে নাচোল উপজেলার হাজারবিঘী বিলের ধারে আয়োজিত মানববন্ধনে চার শতাধিক কৃষক অংশ নেন। এ সময় কৃষকদের সঙ্গে তাদের সন্তানরাও বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে অংশগ্রহণ করেন।

বক্তারা অভিযোগ করেন, পাঁচ বছর আগে বিল ইজারা নিয়ে সরকারি খালে রাতের বেলায় কংক্রিটের বাঁধ নির্মাণ করেন ইজারাদার নাসিম আলি। এতে গত বছর বিলসংলগ্ন প্রায় পাঁচ হাজার বিঘা জমির ধান তলিয়ে যায়। বাঁধ অপসারণের চেষ্টা করতে গিয়ে এক কৃষকের মৃত্যুও হয়। এর পরও বিলের অধিকাংশ ধান রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

কৃষকদের অভিযোগ, প্রশাসনের কাছে একাধিকবার লিখিত আবেদন করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উল্টো ইজারাদারের পক্ষ থেকে হুমকি ও মামলার ভয় দেখানো হচ্ছে। দ্রুত বাঁধ অপসারণ না করলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বিষয়টি জানানো হলেও ১০ দিনেও সমাধান হয়নি। দ্রুত বাঁধ অপসারণ বা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে ফসল রক্ষা করা সম্ভব হবে না। আব্দুল জলিল বলেন, সন্তানের মতো করে ফসল ফলাই, আর তা ডুবে গেলে আমরা সর্বস্বান্ত হয়ে যাই।’ আব্দুল মালেক জানান, গত বছর তাঁর ৮০ ভাগ ধান নষ্ট হয়েছে। ঋণ নিয়ে আবার আবাদ করেছেন। এবারও ক্ষতি হলে পরিবার নিয়ে চরম সংকটে পড়বেন।

বাঁধ অপসারণে গিয়ে নিহত কৃষক নজরুল ইসলামের ভাই ওয়াহাব আলী বলেন, তাঁর ভাইয়ের মৃত্যুর বিচার হয়নি, বাঁধও অপসারণ করা হয়নি।
কৃষক ওবাইদুর রহমান জানান, বিলের ৩২০ একর খাস জমি থাকলেও আশপাশে প্রায় ১ হাজার ৫০০ একর ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি রয়েছে। কিন্তু ইজারাদার পানি ধরে রেখে এসব জমির ফসল নষ্ট করছেন।

তবে ইজারাদার নাসিম আলি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি চন্নাবহিপাড়া এলাকায় ২৪ একর ও হাজারবিঘী বিলে ৩২০ একর লিজ নিয়ে মাছ চাষ করতে পারছেন না। কৃষকরাই বিল দখল করে ধান চাষ করছেন এবং বাঁধ কেটে মাছ নষ্ট করছেন। হাইকোর্টের রায়ে তিনি বাঁধ রক্ষা করেছেন বলেও দাবি করেন।

নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির মুন্সি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরে জানানো হবে।

আরও পড়ুন

×