কাঙাল হরিনাথের প্রয়াণ দিবস কেটেছে নিরবে
পুরো এলাকায় সুনসান নিরবতা। ম্যুরালে দেওয়া হয়েছে পুষ্পস্তবক। শনিবার দুপুরে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের স্মৃতি জাদুঘরে। ছবি: সমকাল
কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ | ১৯:২১
গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কাঙাল হরিনাথ মজুমদার মারা যান ১৮৯৬ সালের ১৮ এপ্রিল। শনিবার ছিলো তাঁর ১৩০তম প্রয়াণ দিবস। কিন্তু সংস্কৃতিমন্ত্রীর সময় না মেলায় নির্ধারিত দিনে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে অবস্থিত কাঙাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘরে এদিন কোনো আয়োজন ছিলো না। এমনকি কোনো কর্মসূচি নেয়নি উপজেলা প্রশাসনও। এতে ক্ষোভ জানিয়েছেন কাঙালের বংশধর ও স্থানীয় কবি-সাহিত্যিক-সাংবাদিকেরা।
একাধারে সাংবাদিক, সমাজসংস্কারক, নারী শিক্ষার পথিকৃৎ, বাউল, সাধক ও সাহিত্যিক ছিলেন কাঙাল হরিনাথ মজুমদার। ১৮৩৩ সালের ২২ জুলাই কুমারখালীর কুন্ডুপাড়ায় জন্ম তাঁর। ১৮৬৩ সালের এপ্রিলে কুমারখালী থেকে ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ নামের মাসিক পত্রিকা প্রকাশ শুরু করেন। তাঁর স্মরণে কুমারখালীতে একটি স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ হয়েছে। কিন্তু অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে তাঁর বাস্তুভিটা ও সমাধি।
শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে কুমারখালী পৌরসভার কার্যালয়ের পাশে অবস্থিত স্মৃতি জাদুঘরে দেখা গেছে, তাঁর ম্যুরালে জাদুঘরের কর্মচারীরা দায়সারাভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন ও ফুলের মালা দিয়েছেন। পুরো এলাকায় সুনশান নিরবতা। প্রধান ফটকেও ঝুলছে তালা।
কাঙাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘরের তত্ত্বাবধায়ক তাপস কুমার মণ্ডল বলেন, ‘আজ (শনিবার) কাঙাল হরিনাথের ১৩০ তম প্রয়াণ দিবস। এবারের দিবসে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী অতিথি থাকবেন। তবে মন্ত্রীর শিডিউল পাওয়া না যাওয়ায় দিবসের অনুষ্ঠান কয়েক সপ্তাহ পরে হবে। তবে আজ সকালে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও একটি বৃক্ষরোপণ করে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।’
প্রয়াণের দিতে কোনো আয়োজন না থাকায় চরম ক্ষুব্ধ কাঙাল হরিনাথের চতুর্থ বংশধর মৃত অশোক মজুমদারের স্ত্রী গীতা রানী মজুমদার (৬৮)। তিনি বলেন, ‘কাঙাল ভাঙিয়ে অনেকেই খাইলো। কাঙাল ভাঙিয়ে কতজন বড় লোক হয়েছে। তবে যে কাঙাল, সে কাঙালই আছে। কাঙালের মতন যাচ্ছে তাঁর তিরোধান দিবস। তাঁর নামের আগেও কাঙাল, পরেও কাঙাল।’
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘কাঙাল সব সময় সত্য বলা, সৎ পথে চলা ও মানুষের কল্যাণের কথা বলে গেছেন। মানুষের মুক্তির জন্য কাজ করে গেছেন। কিন্তু আজ কাঙালই বঞ্চিত। সাংবাদিকরাও খোঁজ নেয়না কাঙালের। কোনো টিভিতে একটি শিরোনামও দেখা যায় না। অথচ সকলেই কাঙালকে গুরু বলে ভাঙিয়ে চলেন। অথচ আজ পর্যন্ত ও অরক্ষিত কাঙালের বাস্তভিটা ও সমাধি।’
গীতা রাণীর ছেলে দেবাশীষ মজুমদার বলেন, সাংবাদিকরা কাঙালকে গুরু দাবি করে। কিন্তু গুরুকে শুধু চার দেওয়ালের মধ্যে রেখে স্মরণ করলেই হবে না। কাঙালের সকল অনু্ষ্ঠান জাতীয়ভাবে পালন করতে হবে।
গত বছর কর্মকর্তার বিয়ের অজুহাতে যথাসময়ে দিবস পালিত হয়নি। এবারও অদৃশ্য কারণে পালন হচ্ছে না। এটা এক ধরনের অবমাননা ও আইন বিরোধী বলে মনে করেন স্থানীয় কবি ও সাহিত্যিক লিটন আব্বাস। তিনি বলেন, ‘শুধু প্রশাসন বা সাংবাদিক নয়। কবি, সাহিত্যিক, লেখক ও সুশীলদেরও উচিৎ ছিল দিনটি মর্যাদা দেওয়া। এতে গুণীদের আলো ফুরাবে না। বরং আমরাই অন্ধকারে ঢেকে যাব।’
ইউএনও ফারজানা আখতার মোবাইল ফোনে বলেন, ‘শুক্রবার জাদুঘরের কর্মকর্তা জানিয়েছেন মন্ত্রীর মহোদয়ের আগমনের কারণে প্রয়াণ দিবসের আনুষ্ঠানিকতা কয়েকদিন পরে হবে। এটা অবহেলা নয়, আসলে বড় অনুষ্ঠানের জন্য এমন হয়েছে। তবে গত বছরে কি ঘটেছিল তা জানা নেই।’
