ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সালিশে মারধরের পর গৃহবধূর আত্মহত্যা, গ্রেপ্তার ৩ সালিশদার

সালিশে মারধরের পর গৃহবধূর আত্মহত্যা, গ্রেপ্তার ৩ সালিশদার
×

গ্রেপ্তার তিনজন। ছবি: সমকাল

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | ১৯:৪২

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে গ্রাম্য সালিশে প্রকাশ্যে মারধর ও অপমানের পর আত্মহত্যা করেছেন এক গৃহবধূ। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার উত্তর কাশাদহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে নিহতের বাবা বাদী হয়ে জাকির হোসেনকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও পাঁচ-ছয়জনের বিরুদ্ধে শিবালয় থানায় মামলা করেন।

নিহত নাজমা আক্তার (২৫) ওই গ্রামের নুরুল ইসলামের স্ত্রী এবং স্থানীয় একটি তালা তৈরির কারখানার শ্রমিক ছিলেন। এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে পুলিশ তিন সালিশদারকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন– আব্দুল আজিজ খান (৭০), নাঈম হোসেন (২১) ও শুক্কুর আলী (৪৫)। 

পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে ব্যক্তিগত সম্পর্কের অভিযোগ তুলে নাজমার বাবার বাড়িতে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় মাতব্বর আজিজ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সালিশে লিটন, চুন্নু, নান্নুসহ বেশ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি নেতৃত্ব দেন। অভিযোগ ওঠে, সালিশ চলাকালীন নাজমা ও অভিযুক্ত যুবক জাকির হোসেনকে দীর্ঘ সময় ধরে কিলঘুষি, লাথি ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। উপস্থিত ৫০-৬০ জন মানুষের সামনে তাদের চরম অপমানজনক কথা বলা হয়। 

নিহতের স্বামী নুরুল ইসলাম জানান, সালিশে তার স্ত্রীকে মারধরের দৃশ্য উপস্থিত কেউ কেউ মোবাইল ফোনে ধারণ করে এবং পরে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এই লোকলজ্জা ও শারীরিক লাঞ্ছনা সহ্য করতে না পেরে পরদিন শনিবার সন্ধ্যায় নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন নাজমা।

নিহতের বাবা ও মামলার বাদী খালেক পেয়াদা অভিযোগ করেন, “মেয়েকে শাসনের কথা বলে ডেকে এনে নির্মমভাবে পেটানো হয়েছে। সালিশদাররা আমার মেয়েকে উদ্দেশ করে বলেছিল, ‘এই লজ্জা নিয়ে বাঁচার চেয়ে তোর মরে যাওয়াই ভালো।’ তাদের এই প্ররোচনাতেই আমার মেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।” 

ঘটনার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। আজ রোববার বিকেলে স্থানীয় কবরস্থানে নাজমার দাফন সম্পন্ন হয়। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শিবালয় থানার উপপুলিশ পরিদর্শক সুমন চক্রবর্তী জানান, মামলার পর রোববার অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের এরই মধ্যে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন

×