স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ: তরুণের যাবজ্জীবন
প্রতীকী ছবি
চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬ | ১৮:২৩ | আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬ | ১৮:২৫
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে এক তরুণকে দুটি ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা নারী ও শিশু আপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোস্তাগীর আলম আসামীর উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্র জানায়, বিচারক একই সঙ্গে আসামি দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গার বাসিন্দা আব্দুস সালামকে (২১) ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অনাদায়ে তাকে আরও ৯ মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গার ওই কিশোরীকে (দশম শ্রেণির ছাত্রী) প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় অপহরণ করেন আব্দুস সালাম। পরে বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে ভূয়া বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ও ‘কাল্পনিক কাবিননামা’ তৈরি করে ধর্ষণ করেন।
পরবর্তীতে স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন। বিষয়টি তদন্তের পর পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) হারুন অর রশীদ আসামি সালাম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেন।
মামলায় উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক ও প্রমাণ বিবেচনা করে পৃথক দুটি ধারায় সোমবার ওই রায় দেন বিচারক মোস্তাগীর আলম। অভিযোগ প্রমাণিত না হাওয়ায় অন্য আসামিদের বেকসুর খালাস দেন তিনি।
রায়ের পর আদালত প্রাঙ্গণে আবেগঘন পরিবেশ দেখা দেয়। ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা রায়ে সন্তুষ্টি জানান। এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এম এম শাহজাহান মুকুলও। তিনি মনে করেন, বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে ধর্ষণের যে প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, এই রায় তা রোধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।
- বিষয় :
- চুয়াডাঙ্গা
- দামুড়হুদা
- মামলা
- রায়
