ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শ্রেণিকক্ষে খসে পড়ল বৈদ্যুতিক পাখাসহ ছাদের পলেস্তারা

শ্রেণিকক্ষে খসে পড়ল বৈদ্যুতিক পাখাসহ ছাদের পলেস্তারা
×

দেবিদ্বারের গজারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে বৈদ্যুতিক পাখা ভেঙে পড়ে সমকাল

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:২৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেবিদ্বারে একটি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে বৈদ্যুতিক পাখাসহ ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। তবে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে শ্রেণিকক্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা। ঘটনার পরপর শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে শিক্ষার্থীদের দ্রুত শ্রেণিকক্ষ ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। গতকাল বুধবার দুপুরে ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে গজারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, ১৯৩৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় গজারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এরপর ১৯৬৮ সালে একটি একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। ওই ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়লে কয়েক বছর ধরে নতুন ভবনের দাবি করে আসছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও এলাকাবাসী।

গজারিয়া গ্রামের জুয়েল রানা নামে একজন অভিভাবক জানান, বুধবার দুপুরে হঠাৎ করে ওই ভবনের একটি কক্ষে বৈদ্যুতিক পাখাসহ ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। সে সময় শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী ও একাধিক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। তবে ভাগ্যক্রমে কেউ হতাহত হয়নি। ঘটনার পরপর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তারা দৌড়ে গিয়ে তাদের ছেলেমেয়েকে বাড়িতে নিয়ে যান। ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বেশ কয়েকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহনাজ আক্তারের ভাষ্য, বুধবার দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে প্রথম ক্লাস শেষ হওয়ার পরপর বৈদ্যুতিক পাখাসহ ছাদের পলেস্তারা শ্রেণিকক্ষের ভেতরে ভেঙে পড়ে। যে বেঞ্চের ওপর ভেঙে পড়ছে সেখানে শিক্ষার্থী ছিল না। অল্পের জন্য সবাই রক্ষা পায়। তিনি বলেন, ‘গত সপ্তাহে আমি এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙে ফেলার জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছি। এর আগেও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে নতুন ভবনের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে ডিও লেটার দিয়েছে, কিন্তু এ পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’
দেবিদ্বার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিনহাজ উদ্দিন জানান, তিনি কয়েকবার ওই বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন, স্কুলের ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছেন। কিন্তু ওখানে ক্লাস করানো ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। বুধবার দুপুরে শুনেছেন স্কুলের বৈদ্যুতিক পাখাসহ ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে, তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। তিনি নতুন ভবনের চাহিদাপত্রে এক নম্বরে রেখেছেন ওই স্কুলের নাম। এটি নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গেও আলাপ হয়েছে, দ্রুত ভবনটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করা হবে।

আরও পড়ুন

×