ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চাঁদা না দেওয়ায় হামলা চালিয়ে ট্রান্সফরমার লুটের অভিযোগ, ৫ দিনে লুট ৬টি

চাঁদা না দেওয়ায় হামলা চালিয়ে ট্রান্সফরমার লুটের অভিযোগ, ৫ দিনে লুট ৬টি
×

ছবি: সমকাল

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | ১৯:৪৪

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে ট্রান্সফরমার চুরি উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। মাত্র পাঁচদিনের ব্যবধানে উপজেলার দুটি ইউনিয়নে পৃথক ঘটনায় ছয়টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার লুট করা হয়েছে। চাঁদা না দেওয়ায় গভীর নলকূপের মালিক ও চালকদের বেঁধে রেখে মারধর করে ট্রান্সফরমারের ভেতরের মূল্যবান কয়েল লুট করে নিয়ে গেছে চক্রটি।

ভুক্তভোগী আব্দুল কুদ্দুসের অভিযোগ, বুধবার রাত ১০টার পরে সোনামুখী ইউনিয়নের চকরঘুনাথ গ্রামে একটি গভীর নলকূপে হামলা চালায় ৫-৬ জনের একটি দল। নলকূপের চালক আব্দুল কুদ্দুস (৬০) রাত ১০টার দিকে সেচ ঘরে গেলে তাকে আক্রমণ করা হয়। এরপর হাত-পা ও মুখ বেঁধে রাতভর মারধর করা হয় হয় তাকে।

এ সময় চক্রটি তিনটি বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে ট্রান্সফরমার নামিয়ে খোল ফেলে রেখে ভেতরের কয়েল খুলে নিয়ে যায়। সকালে স্থানীয়রা আব্দুল কুদ্দুসের গোঙানির শব্দ পেয়ে তাকে উদ্ধার করে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

গত রোববার দিবাগত রাতে রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের নওদুয়ারী মাঠে একই কায়দায় আরেকটি চুরির ঘটনা ঘটে। সেখানে সেচপাম্পের মালিক মিলনকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে রেখে তিনটি ট্রান্সফরমার থেকে কয়েল খুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরদিন সকালে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগীরা জানান, ২৫ ফেব্রুয়ারি চিরকুট দিয়ে মোবাইল নম্বরসহ ট্রান্সফরমার ও মিটার অক্ষত রাখতে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। এ ঘটনায় ১ মার্চ থানায় লিখিত অভিযোগও করা হয়। কিন্তু সেই অভিযোগের পরও চক্রটি সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

চকরঘুনাথ গ্রামের গভীর নলকূপ সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বলেন, পাম্প চালককে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। আগে থেকেই আমাদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। টাকা না দেওয়ায় এই ঘটনা ঘটেছে। ফোন নম্বর থাকার পরও অপরাধীরা ধরা পড়ছে না।

এদিকে ধারাবাহিক এসব ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও নলকূপ মালিকরা। তারা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হবে এবং কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা বলেন, প্রতিটি ঘটনা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধীরা ভুয়া পরিচয়পত্র দিয়ে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করায় শনাক্ত করতে কিছুটা জটিলতা হচ্ছে। তবে দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন

×