মোটরসাইকেল চালক নুরের আয় কমছে, দেনা বাড়ছে
নুর ইসলাম হাওলাদার
তানজীম আহমেদ, বাগেরহাট
প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ | ০৯:৩১
| প্রিন্ট সংস্করণ
৩৫ বছর বয়সী নুর ইসলাম হাওলাদার। একটি মোটরসাইকেল তাঁর জীবিকার একমাত্র মাধ্যম। কখনও খাবার সরবরাহ করেন; কখনও ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করেন। এই বাহনের আয়েই চলে তাঁর ৫ সদস্যের পরিবার। ভালোই যাচ্ছিল দিন।
জ্বালানি সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি এখন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে নুর ইসলামের জীবনে। যে বাইক সচল রাখে তাঁর পরিবারের চাকা, সেটি চালাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁকে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে নিতে হচ্ছে জ্বালানি তেল, অন্যদিকে দাম বেড়ে যাওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে বাড়তি চাপ।
নুর ইসলাম হাওলাদার বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার গুলিশাখালী এলাকার বাসিন্দা। জীবিকার তাগিদে বাগেরহাট থেকে খুলনা পর্যন্ত মোটরসাইকেল নিয়ে ছুটে বেড়ান তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের সংকটে বহুমুখী সমস্যায় পড়েছেন। ঊর্ধ্বগতির বাজারের সঙ্গে তাল মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন এই যুবক। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কথা হয় তাঁর সঙ্গে।
নুর ইসলাম বলেন, প্রতিদিন ভোরে উঠে তেলের লাইনে দাঁড়াই। কোনোদিন ৩০০, কোনোদিন ৫০০ টাকার তেল দেয়। এখন তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বেড়ে গেছে। ঘরে অসুস্থ স্ত্রী, বৃদ্ধ বাবা-মা, প্রতিদিন আড়াইশ টাকার ওষুধ লাগে। ছোট বোনের লেখাপড়া। বাজারে জিনিসপত্রের দামও চড়া। খরচ বেড়েই চলেছে, কিন্তু আয় তো কমছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে পাওয়া তেল দিয়ে সারাদিন চলে না। খাবারের অর্ডার এলে নিতে পারি না। ভাড়ায় কেউ যেতে চাইলে হিসাব করতে হয় পথে তেল শেষ হবে কিনা। আগে দিনে হাজারখানেক টাকা আয় হতো। এখন ৫০০ টাকা রোজগার করতে দিন শেষ হয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, হিসাব করে চললেও দিনে প্রায় ৭০০ টাকা খরচ হয়। ‘ধার দেনা করে চলতে হচ্ছে। মানুষের কাছে কত চাওয়া যায়, পাওনাদাররাও টাকার কথা বলে। সঙ্গে বউ এবং মায়ের চিকিৎসা। না পেরে তাই এ মাসে সমিতি থেকে ৫০ হাজার টাকা লোন তুলেছি।
- বিষয় :
- মোটরসাইকেল
