মাদ্রাসা শিক্ষকের ধর্ষণের শিকার কিশোরী, হুমকিতে এলাকাছাড়া
নেত্রকোনা ও মদন প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ | ০৯:৩৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
নেত্রকোনার মদনে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। কিশোরীর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হলে ধর্ষণের ঘটনাটি জানাজানি হয়। তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে এলাকা ছাড়া করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগর।
শিক্ষক আমান উল্লাহ মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহাড় বড়বাড়ি গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে। পাঁচহাড় গ্রামে ২০২২ সালে একটি মহিলা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। মাদ্রাসায় তাঁর স্ত্রীও শিক্ষকতা করেন। এই মাদ্রাসায় লেখাপড়া করত ধর্ষণের শিকার কিশোরী।
জানা গেছে, মেয়েটির মাকে ছেড়ে গেছে তার বাবা। এরপর থেকে জীবিকার তাগিদে সিলেটে গৃহ-পরিচারিকার কাজ করেন তার মা। মেয়েটি নানির কাছে থেকে ওই মহিলা মাদ্রাসায় লেখাপড়া করত। এর মধ্যে গত বছরের নভেম্বর মাসে আমান উল্লাহ সাগর মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলা হবে বলে ভয় দেখান সাগর। পরে তার আরেক শিক্ষককে ঘটনাটি বললে মেয়েটিকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেন তিনি। পাঁচ মাস পার হওয়ার পর কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন দেখা যায়। সন্দেহ হলে মেয়েটির মা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এক পর্যায়ে সে তার মাকে ঘটনা জানায়। পরে তার মা এলাকায় বিচার চাইতে যান। আমান উল্লাহর পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় উল্টো তাদের হুমকি-ধমকিতে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে মাদ্রাসাটির একজন শিক্ষক বলেন, ‘আমান উল্লাহ সাগরের নির্দেশে প্রায় পাঁচ মাস আগে ওই মেয়েটিকে কোনো একটি অজুহাত দেখিয়ে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়। মেয়েটির
অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর শুনে বুঝতে পারি কেন তাকে বের করে দেওয়া হয়।’
অন্তঃসত্ত্বা মেয়েটির এক স্বজন জানান, শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। নানার বাড়িতে থেকে মাদ্রাসায় লেখাপড়া করত। চার-পাঁচ মাস আগে মেয়েটিকে মাদ্রাসা থেকে তাড়িয়ে দেন সাগর। এখন সে প্রায় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
আমান উল্লাহ সাগরের বড় ভাই মামুন মিয়ার ভাষ্য, গ্রামের লোকজনের মুখে শুনেছেন মেয়েটিকে তার ভাই ধর্ষণ করেছে। তাদের কাছে কেউ বিচার চাইতে আসেনি। দুই দিন আগে মেয়েটির নানার বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিয়েছেন তিনি। তারা এখানে নেই। যদি ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে তিনিও চান সুষ্ঠু বিচার হোক। এ ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর থেকে তাঁর ভাই বাড়ি থেকে চলে গেছে।
ইউপি সদস্য সোহেল মিয়া বলেন, ‘মানুষের মুখে শুনেছি মেয়েটির মা এলাকায় এসেছিল তাঁর মেয়ের ধর্ষণের বিচার চাইতে। আমান উল্লাহ সাগরের ধর্ষণে নাকি ওই মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে।’
মদন থানার ওসি হাসনাত জামান জানান, এ রকম কোনো ঘটনা তিনি জানেন না। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- ধর্ষণের শিকার
