চাঁদা না দেওয়ায় গাছ কেটে পরিবারের সদস্যদের মারধর
কৃষকের কমলা গাছ কেটে ফেলেছে বনরক্ষীরা। বুধবার কমলগঞ্জের আদমপুর বনবিট সমকাল
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ | ১০:০৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি রেঞ্জের আদমপুর বনবিট এলাকায় কয়েক প্রজন্ম ধরে বসবাস করে আসছেন মহেব উল্লা নামে এক ব্যক্তিসহ শতাধিক পরিবার। বন বিভাগের বিধি অনুযায়ী, নিজ নিজ বাড়িতে শাকসবজি, ফসল ও ফল চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন তারা। চাঁদা না দেওয়ায় মহেব উল্লা পরিবারের কমলা বাগান ও আনারস বাগানের গাছ কেটে পরিবারের সদস্যদের বন প্রহরীরা মারধর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বুধবার রাজকান্দি রেঞ্জের আদমপুর বনবিট এলাকায় কালেঞ্জি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
মহেব উল্লার ছেলে আলী হোসেন ও গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাড়িতে ফল ও ফসল চাষাবাদের জন্য বিট কর্মকর্তাকে টাকা দিতে হয়। আনারস ও কমলা গাছ লাগানোর সময় আলী হোসেন বিট কর্মকর্তাকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়েছেন। সম্প্রতি আরও টাকা দাবি করলে আলী হোসেন অপারগতা প্রকাশ করেন। এর জেরে গত বুধবার দুপুরে বিট কর্মকর্তার নির্দেশে বন প্রহরী শাহ আলম ও শাহীন আহমেদ জোর করে তাদের বেশ কয়েকটি কমলা গাছ ও আনারস গাছ কেটে ফেলেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে তাঁর বাবা মহেব উল্লা ও মা আলেকজান বিবিকে মারধর করেন তারা। এ সময় আলী হোসেনের স্ত্রী সালমা বেগমও (৩০) আহত হন। আহত মহেব উল্লা ও আলেকজান বিবি কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।
ভুক্তভোগী ও গ্রামবাসীর অভিযোগ, আদমপুর বন কর্মকর্তা অর্জুন কান্তি দস্তিদার এই বিটে যোগদানের পর থেকে এলাকাবাসীকে নানাভাবে হয়রানি করছেন। অভিযোগ সম্পর্কে বক্তব্য জানতে বিট কর্মকর্তা অর্জুন কান্তি দস্তিদারের মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি সাড়া দেননি।
এদিকে আলী হোসেন ও গ্রামীবাসীর অভিযোগটি সম্পূর্ণ সাজানো ও বানোয়াট দাবি করে উল্টো তাদের বিরুদ্ধে বনরক্ষীর ওপর হামলার অভিযোগ করেছেন রাজকান্দি রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রীতম বড়ুয়া। তিনি বলেন, পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। বন বিভাগের পক্ষ থেকেও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
- বিষয় :
- গাছ কাটা
