ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

উৎপাদনে ফিরল বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র

উৎপাদনে ফিরল বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র
×

ছবি: ফাইল

দিনাজপুর প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ | ২১:৫৬

যান্ত্রিক ত্রুটি সারিয়ে উৎপাদনে ফিরেছে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। প্রাথমিকভাবে এখান থেকে উৎপাদিত ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে, যা ধীরে ধীরে বাড়বে। 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক। তিনি জানান, ৮টা ৭ মিনিট থেকে এই কেন্দ্রের উৎপাদন শুরু হয়েছে। দ্রুত মেরামত কাজ সম্পন্ন করায় নির্ধারিত সময়ের আগেই ইউনিটটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে। 

এর আগে, বুধবার দিবাগত রাত ১০টা ২ মিনিটে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের চারটি কোল মিলের মধ্যে দুইটি ভেঙে যায়। এতে ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। 

বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট আগে থেকেই বন্ধ ছিল। চালু থাকা একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পাথর মিশ্রিত কয়লার কারণে কোল মিল ভেঙে গেছে বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ। 

বন্ধ হওয়ার পর ওই রাত থেকেই মেরামত কার্যক্রম শুরু করে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। অবশেষে মেরামত শেষে পুনরায় উৎপাদনে ফিরলো কেন্দ্রটি। এই কেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলেও উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে লোডশেডিং এবং লো-ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের তিনটি ইউনিট রয়েছে, যার মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিট ১২৫ মেগাওয়াট করে মোট ২৫০ মেগাওয়াট। আর তৃতীয় ইউনিটটি ২৭৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। আর ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে বন্ধ আছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে একটি ইউনিটের ওপর নির্ভর করেই এই কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন চলছিল। 

তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী জানিয়েছেন, আগামী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে চালু হবে ২৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন তৃতীয় ইউনিট। আর দ্বিতীয় ইউনিটটি চালু করতে চীনা কোম্পানির সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের আলোচনা চলছে। এই ইউনিট চালু করার জন্য চার সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। খুব দ্রুতই দ্বিতীয় ইউনিট চালুর ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত আসবে। এই ইউনিট চালু করতে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩ মিলিয়ন ডলার। চীনা কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে যার কম বা বেশি হতে পারে। 

আরও পড়ুন

×