রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর
মেলেনি পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও বিচার দাবি
রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে নিহত শ্রমিকদের স্মরণে গতকাল শুক্রবার সাভারে ঘটনাস্থলে অস্থায়ী বেদিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করে বিভিন্ন সংগঠন সমকাল
নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার
প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৫২
| প্রিন্ট সংস্করণ
সাভারে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর পূর্ণ হয়েছে গতকাল। কিন্তু এ দীর্ঘ সময়ে ক্ষতিগ্রস্তরা পাননি পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ। হতাহতের পরিবারকে পূনর্বাসন না করায় তাদের নিত্যদিন কাটছে চরম দুর্ভোগে। এ ঘটনার জন্য দায়ীদের শাস্তিও নিশ্চিত হয়নি।
গতকাল শুক্রবার ভয়াবহ ওই ট্র্যাজেডির দিনটিকে স্মরণ করে আয়োজিত সমাবেশে বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী ও হতাহত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্য এসব বিষয় তুলে ধরেন। স্বজনরা কান্না ও ক্ষোভ নিয়ে নিহতদের স্মরণ করেন।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাজার বাসষ্ট্যান্ডের আটতলা ভবন রানা প্লাজা ধসে ১ হাজার ১৩৬ জন নিহত ও আরও ২ হাজার ৪০০ জন আহত হন। আহতদের অনেকেই চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে এ শ্রমিকরা মানবেতর জীবন পার করছেন।
রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি দিবস পালন উপলক্ষে গতকাল সকালে ধ্বসে পড়া ভবনের স্থানটির কাছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন উপস্থিত হয়। ছিলেন হতাহতদের স্বজনরাও। নিহতদের স্বরণে সেখানকার অস্থায়ী বেদীতে তারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপর মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মী ও স্বজনরা।
সমাবেশে বক্তরা ভবন মালিক সোহেল রানাসহ জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। নিহত ও পঙ্গু শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে পুনর্বাসন ও একজীবনের আয়ের সমপরিমান ক্ষতিপূরণ ও ২৪শে এপ্রিলকে জাতীয় শ্রমিক শোক দিবস ঘোষণার দাবি জানান তারা। বক্তারা রানা প্লাজার সামনে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, রানা প্লাজার জায়গা ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে হতাহত শ্রমিকদের পরিবারকে পুনর্বাসন, আহতদের সু-চিকিৎসা, সব শিল্প কারখানাসহ কর্মস্থলে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সমাবেশে বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছরেও জড়িতদের শাস্তি হয়নি। জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাই। তিনি বলেন, শ্রমিক ছাটাই-নির্যাতন, মামলা-হামলা বন্ধ, শ্রমিকের নিয়োগপত্র প্রদান, পরিচয়পত্র প্রদান, গণতান্ত্রিক শ্রমআইন প্রণয়ন, শ্রম আদালতে ১৫০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তিকরণ, জাতীয় মজুরী ঘোষণাকরণ, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, এখনও হতাহতদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হয়নি। আহত শ্রমিকরা চিকিৎসার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। আইএলও কনভেনশন অনুসারে শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, রানা প্লাজা ও তাজরীন কারখানায় বিশ্বের অন্যতম বড় শ্রমিক হত্যার উদাহরণ হলেও এসব মামলার অধিকাংশ আসামি বর্তমানে জামিনে মুক্ত। ভবন মালিক সোহেল রানা ছাড়া অন্যদের বিরুদ্ধে কার্যকর বিচার এখনও দৃশ্যমান নয়।
বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের কেন্দ্রিয় কমিটির সভাপতি তুহিন চৌধুরী বলেন, এতোগুলো মানুষ মারা গেলো, অনেকেই আহত হলো। কিন্তু তাদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে না।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি অরবিন্দু ব্যাপারী বিন্দু, বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুমাইয়া ইসলাম, সাজিয়া রহমানসহ রানা প্লাজার আহত শ্রমিকেরা।
কর্মসূচীতে অংশ নেয় বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলন, বাংলাদেশ টেক্সটাইল-গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলসহ নানা সংগঠন।
- বিষয় :
- রানা প্লাজা
