ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন

‘আয়বর্ধক’ ১০টি ফ্ল্যাট এখন পরিত্যক্ত

‘আয়বর্ধক’ ১০টি ফ্ল্যাট  এখন পরিত্যক্ত
×

অক্সিজেন মোড়ে ভাঙ্গা ব্রিজসংলগ্ন সিটি করপোরেশনের আয়বর্ধক প্রকল্পের ভবন সমকাল

 আহমেদ কুতুব, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৫৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে (চসিক) আর্থিক সুরক্ষা দিতে ২০০৬ সালে নগরের অক্সিজেনে একটি  ‘আয়বর্ধক’ ফ্ল্যাট প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন সে সময়ের মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। এরপর চার মেয়রের কেউই প্রকল্পের ১০ ফ্ল্যাটের একটিও বিক্রি করতে পারেননি। হেলাফেলায় ২০ বছর পড়ে থেকে সব ফ্ল্যাটের দরজা-জানালা নষ্ট হয়ে গেছে। তালাবদ্ধ ফ্ল্যাটের দেয়ালের পলেস্তারা ঝরে পড়ছে। পরিত্যক্ত পড়ে আছে প্রায় চার কোটি টাকা মূল্যের সরকারি সম্পদ। ১০টি ফ্ল্যাট বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্টরা জানেনও না এভাবে নষ্ট হচ্ছে চসিকের মূল্যবান সম্পদ।

চসিক সূত্রে জানা গেছে, এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী মেয়র থাকাকালে বেশ আর্থিক সংকটে ভুগত সিটি করপোরেশন। সে সময়ের সরকারের সঙ্গে মেয়র মহিউদ্দিনের সম্পর্ক ভালো না থাকায় সরকারি আর্থিক সহায়তা পেতেন কম। তাই বাণিজ্যিক রাজধানীর রাস্তাঘাট উন্নয়ন, খাল-নালা নিয়মিত পরিষ্কার, কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন পরিশোধসহ শহরের অবকাঠামোগত উন্নয়নে হিমশিম দশা ছিল তাঁর। কারণ যে পরিমাণ গৃহকর বাবদ রাজস্ব আয় হচ্ছিল, তা বার্ষিক খরচের চেয়ে অনেক কম ছিল। এ কারণে মহিউদ্দিন চৌধুরী চসিককে আর্থিক সুরক্ষা দিতে নগরে একাধিক আয়বর্ধক ফ্ল্যাট ও প্লট প্রকল্প হাতে নেন। সেই ফ্ল্যাট ও প্লট বিক্রি করে জমি কেনা ও নির্মাণ ব্যয় বাদ দিয়ে যে আয় করতেন তা দিয়ে চসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা পরিশোধের পাশাপাশি শহরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতেন। 
এরই একটি প্রকল্প ছিল নগরের অক্সিজেনের ফ্ল্যাট প্রকল্পটি। ২০০৭ সালে প্রকল্পটির ৭২টি ফ্ল্যাটের মধ্যে তিনি ৮০০ টাকা প্রতি বর্গফুটে ২৪টি, ২০০৮ সালে এক হাজার ২০০ টাকা বর্গফুটে ১৭টি ফ্ল্যাট বিক্রি করেন। তারপর ২০০৯ সালের মেয়র নির্বাচনে তিনি বিএনপির এম মঞ্জুর আলমের কাছে হেরে যান। 

মঞ্জুর আলম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০১১ সালে পত্রিকায় ফ্ল্যাট বিক্রির বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এক হাজার ৫০০  টাকা বর্গফুটের মাত্র আটটি ফ্ল্যাট বিক্রি হয়। বাকি ফ্ল্যাটগুলো 
কিনতে কেউ আগ্রহ দেখায়নি। পরে ২০১৫ সালে তিন হাজার টাকা ও ২০১৬ সালে তিন হাজার ৫০০ টাকা বর্গফুট দাম নির্ধারণ করে ফের পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিলে আটটি ফ্ল্যাট বিক্রি হয়। এরপর এ প্রকল্পে বাকি থাকা ১৫টি ফ্ল্যাট বিক্রি করতে পারেনি চসিক। এর মধ্যে চসিক থেকে অবসর নেওয়া পাঁচ কর্মকর্তা পাঁচটি ফ্ল্যাট চাকরির বেনিফিট হিসেবে 

বরাদ্দ পান। বাকি ১০টি ফ্ল্যাট এখনও অবিক্রীত পড়ে আছে।
গত শনিবার সেখানে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ১৫ শতক জায়গার ওপর দুটি ৯ তলা ভবন পাশাপাশি লাগোয়া। একটি ভবনের নবম তলায় পাঁচটি ফ্ল্যাট তালাবদ্ধ। প্রতিটি ফ্ল্যাটের দরজার কাঠ খসে পড়ছে। ভেতরের বাথরুম ও রান্নাঘরের দরজা ভেঙে গেছে। আট তলায় তিনটি ফ্ল্যাটও তালাবদ্ধ। সপ্তম তলায় দুটি ফ্ল্যাট বিক্রি করতে না পারায় তালাবদ্ধ আছে। 
ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রকল্পের দুটি ভবনের দুটি লিফট থাকলেও সেগুলো নিম্নমানের। বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা হিসেবে একটি জেনারেটর বরাদ্দ দেওয়া হলেও তা ২০ বছরের মধ্যে এক দিনও ব্যবহার করা যায়নি।  ১০ ফ্ল্যাটে মানুষ না থাকায় প্রতি মাসেই এখানে বসবাস করা নাগরিকদের অতিরিক্ত ইউটিলিটি চার্জ বহন করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফ্ল্যাট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাফরুল ইসলাম বলেন, চসিকের প্রকল্প থেকে ফ্ল্যাট কিনে আমাদের পদে পদে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। মহিউদ্দিন চৌধুরী প্রকল্পটি নিলেও পরে অন্য কোনো মেয়র এদিকে তাকিয়েও দেখেননি। এখানে থাকা ১০টি ফ্ল্যাট তারা বিক্রিও করতে পারেনি। প্রতি মাসে লাখ টাকার বেশি পানির বিল আসে, বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনের ২৫-৩০ হাজার টাকা বিল আসে। ১০টি ফ্ল্যাট বন্ধ থাকায় প্রতিটি ফ্ল্যাটের সার্ভিস চার্জ অন্য ফ্ল্যাট মালিকরা বহন করতে বাধ্য হচ্ছেন। 

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, অক্সিজেন এলাকার প্রকল্পে অবিক্রীত ফ্ল্যাট আছে কিনা, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। চসিকের সম্পদ এভাবে অবহেলায় পড়ে থাকার সুযোগ নেই। 
চসিকের এস্টেট অফিসার অভিষেক দাশ বলেন, অক্সিজেনের প্রকল্পে ১০টি ফ্ল্যাট অবিক্রীত কেন, জানা নেই। কেন বিক্রি হয়নি, নথি না দেখে বলতে পারছি না। 

আরও পড়ুন

×