ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

সীমিত জনবল, শয্যার দ্বিগুণ ভর্তি রোগীর সেবা দিতে হিমশিম

সীমিত জনবল, শয্যার দ্বিগুণ ভর্তি রোগীর সেবা দিতে হিমশিম
×

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে শয্যা না পেয়ে করিডোরের মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। গত বুধবার দুপুরের ছবি সমকাল

কামাল উদ্দিন, কুমিল্লা

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:০৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি ৫০০ শয্যার হলেও বর্তমানে এখানে প্রতিদিন গড়ে শয্যার দ্বিগুণ রোগী ভর্তি থাকে। এতে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে অনেকটা বেসামাল অবস্থা। ২০১৬ সাল থেকে এক হাজার শয্যায় উন্নীত করার প্রশাসনিক অনুমোদন, জনবল ও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের জন্য একাধিকবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হলেও এখনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে হামসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শিশু এই হাসপাতালে বেশি ভর্তি হচ্ছে। তাই অনেক শিশুর ঠাঁই হচ্ছে মেঝেতে। সেখানে একজন রোগী চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শয্যা কিংবা মেঝে পেতে অন্য রোগীরা ছোটাছুটি করছেন। হাসপাতালের অন্য ওয়ার্ডেরও একই চিত্র। সরেজমিন দেখা গেছে, মেঝেতে জায়গা পাওয়া বয়স্ক নারী-পুরুষসহ শিশুরা প্রচণ্ড গরমে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৭ সালে নগরীর কুচাইতলী এলাকায় প্রায় ১৫ একর জমির ওপর ২৫০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণকাজ শুরু হয়। হাসপাতালটি চালু হয় ১৯৯২ সালের ১১ জানুয়ারি। পরে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় ২০০৯ সালে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। সেখানে অবকাঠামো বাড়লেও ৫০০ শয্যার অনুকূলে পর্যাপ্ত জনবল বাড়েনি। প্রতিষ্ঠার প্রায় ৩৩ বছরেও চালু হয়নি পূর্ণাঙ্গ ‘ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি’ বিভাগ। বর্তমানে হাসপাতালে বরাদ্দ করা ৯১৭ জন জনবলের মধ্যে আছে ৭৯৩ জন, শূন্য আছে চিকিৎসক-নার্সসহ ১২৪টি পদ।

প্রতিদিন বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী জেলা থেকে বিভিন্ন দুর্ঘটনা ও জটিল রোগে আক্রান্তরা এখানে চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। এতে হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও অন্তঃবিভাগে রোগীর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। ৫০০ শয্যার হাসপাতালে সব মিলিয়ে গত ২৩ এপ্রিল রোগী ভর্তি ছিল এক হাজার ৪১৮ জন। বহির্বিভাগে রোগী আসেন এক হাজার ৮৯০ জন। শিশু ও নবজাতক বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট (এনআইসিইউ) নেই। ফলে রোগীদের ছুটতে হয় বেসরকারি হাসপাতালে। নেই হৃদরোগে আক্রান্তদের জন্য ক্যাথ ল্যাব।
শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে ভর্তি ৭৭ জন হাম আক্রান্ত শিশুসহ ২৩৩ জন। যাদের অধিকাংশের ঠাঁই হয়েছে মেঝেতে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, প্রতিদিন হাসপাতালে শয্যার প্রায় দ্বিগুণ রোগী ভর্তি থাকায় অতিরিক্ত রোগীদের জন্য মেঝেসহ বিকল্প শয্যার ব্যবস্থা করা হয়। তাদের ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও খাবার, এমএসআরসহ বিভিন্ন সামগ্রীর জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ নিয়ে সমস্যা থেকেই যাচ্ছে।

গত বুধ ও বৃহস্পতিবার হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, শয্যা না পেয়ে অসংখ্য রোগী মেঝেতে শুয়ে-বসে আছেন। মেডিসিন ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন শাহরাস্তির মুরাদ হোসেন ও দেবিদ্বার উপজেলার বারেরা গ্রামের করফুলের নেছা। শিশু ওয়ার্ডে শয্যা না পেয়ে চার দিন ধরে মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে মুরাদনগরের পাঁচ বছর বয়সী আরিফা আক্তার। তার স্বজনরা জানান, শয্যা না পেয়ে মেঝেতে আছেন তারা, সেখানে পর্যাপ্ত আলো ও পাখা নেই। 
হাসপাতালের পরিচালক ডা. মাসুদ পারভেজ সমকালকে বলেন, হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও অন্তঃবিভাগে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক লোক সেবা নিতে আসেন। শয্যা ও জনবল সংকটের 
বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের জানা আছে। সেবা দিতে চিকিৎসক-নার্সদের আন্তরিকতার অভাব নেই। সীমিত জনবল দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন তারা। 

আরও পড়ুন

×