ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কালাইয়ে আশ্রয়ণ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন সুবিধাভোগীরা

কালাইয়ে আশ্রয়ণ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন সুবিধাভোগীরা
×

কালাই উপজেলার কাঁটাহার আশ্রয়ণে তালাবদ্ধ একটি বসতঘর। বৃহস্পতিবার তোলা সমকাল

 জয়পুরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:২৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

জয়পুরহাটের কালাইয়ে প্রভাবশালীদের জবরদখল ও মাদকসেবীদের অত্যাচারে উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়ণের সুবিধাভোগীরা বসতঘর ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছেন। গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য নির্মাণ করা আশ্রয়ণের ঘর জবরদখল করে চলছে মাদক সেবনসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। মাদক কারবারিদের অত্যাচারে সেখানে বসবাস করতে পারছেন না সুবিধাভোগী বাস্তুহারা মানুষ। এতে সরকারের মহৎ উদ্যোগ ভেস্তে যেতে বসেছে। 

জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাদের  আত্মীয়স্বজন এবং টাকার বিনিময়ে প্রকৃত বাস্তুহারা নন এমন  পরিবারের নামে আশ্রয়ণের ঘর বরাদ্দ দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আশ্রয়ণের অনেক সুবিধাভোগী রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ভয়ে আশ্রয়ণ ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছেন। এই সুযোগে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা ঘরগুলো দখলে নিয়েছেন। দখলদাররা অনেক ঘর ভাড়া দিয়েছেন। আবার কেউ টাকার বিনিময়ে মাদক কারবারির হাতে ঘরের চাবি তুলে দিয়েছেন। এতে করে আশ্রয়ণের ঘরগুলো মাদক ব্যবসা ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের নিরাপদ ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে।

গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে উপজেলার কাঁটাহার আশ্রয়ণে ১৫৯টি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১১৯টি সেমিপাকা ও ৪০টি টিনশেড ঘর রয়েছে। এর মধ্যে ৫৮টি ঘর কয়েকজন প্রভাবশালী তাদের দখলে নিয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, কাঁটাহার গ্রামের সুরুজ মিয়ার ছেলে রিপন, বারেকসহ বেশ কয়েকজন এসব কর্মকাণ্ডের মূলহোতা। তারাই মূলত লোকজন দিয়ে ঘরগুলো জবরদখল করে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। 

উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের বিনইল আশ্রয়ণ প্রকল্পেও একই চিত্র। এই আশ্রয়ণে সুবিধাভোগী দুই পরিবারকে উচ্ছেদ করে তাদের বসতঘর ৮০ হাজার টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। পাশের শ্রীপুর আশ্রয়ণে অনেক বসতঘর তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। পাইকপাড়া ও লকইর আশ্রয়ণের ২২টি বাড়ির মধ্যে ১০টিতেই তালা ঝুলছে। এসব বাড়ি প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে। এ ছাড়া জিন্দারপুর ইউনিয়নের জিন্দারপুর, ঘাটুরিয়া ও বাদাউচ্চ আশ্রয়ণে ৬৩টি ঘরের অধিকাংশই ভাড়া দেওয়া ও বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে। 
উপজেলার তালোড়া বাইগুনী পীরপুকুর আশ্রয়ণে ১৫৯টি ঘরের মধ্যে প্রায় ৮০টি ঘর ছেড়ে গেছেন সুবিধাভোগীরা। অনেকে ঘরগুলো ভাড়া দিয়েছেন। আবুল হোসেন নামে এক বাসিন্দা বলেন, শুধু যে প্রভাবশালী ও মাদক কারবারিদের অত্যাচার তা নয়, আরও অনেক সমস্যাও আছে। বর্ষা এলে পুরো আশ্রয়ণের অলিগলিসহ বাড়ির মধ্যে পানি জমে থাকে। বাড়ির দেয়াল ফেটে যাচ্ছে, তাদের দুর্ভোগের সীমা নেই। 
কালাই থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, আশ্রয়ণে জবর দখলকারী ও মাদক কারবারিদের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কালাই ইউএনও শামীম আরা বলেন, আশ্রয়ণের বাড়ি জবরদখল, ভাড়া ও বিক্রির সুযোগ নেই। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। তিনি আরও জানান, যারা নিয়ম ভঙ্গ করেছেন, তাদের ব্যাপারেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

আরও পড়ুন

×