ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

আদমদীঘি ও নান্দাইলে দুই নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ

আদমদীঘি ও নান্দাইলে দুই নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ
×

প্রতীকী ছবি

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | ০৫:৩৬

বগুড়ার আদমদীঘি ও ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় দুই নারী দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। আদমদীঘিতে গত ২২ এপ্রিল রাতের এ ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদমদীঘি থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী। মামলার চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নান্দাইলের ঘটনায় মামলা হয়নি; কেউ আটকও নেই।

আদমদীঘিতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো– সান্তাহার পোস্ট অফিসপাড়ার নুর ইসলাম বাবুর ছেলে সাহেদুল ইসলাম সাহেদ (২১), শেখ আব্দুল বারেকের মেয়ে রুনা বেগম (৪৫), সান্তাহার পূর্ব লকু কলোনির তহিদুল ইসলামের ছেলে মিঠু হোসেন (২৭) ও একই এলাকার আইয়ুব আলীর ছেলে হৃদয় হোসেন (২০)।

মামলা সূত্রে জানা যায়, আদমদীঘির সান্তাহার পূর্ব লকু কলোনির একটি ভাড়া বাসায় স্বামীর সঙ্গে থাকতেন ওই নারী। ২২ এপ্রিল তাদের পাশের বাসার এক মেয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওইদিন রাত ১১টার দিকে গৃহবধূ ও তাঁর স্বামীকে সান্তাহার রেলগেটে এক দোকানে ডেকে নেন মেয়েটির বাবা। তিনি মেয়েকে বের করে দেওয়ার জন্য তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। এ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে আসামি মিঠু ও হৃদয় গৃহবধূ ও তাঁর স্বামীকে মারধর করতে থাকেন। এক সময় ভয়ে পালিয়ে যান ওই নারীর স্বামী। এর পর আসামি রুনা ভুক্তভোগীকে মারধর করে তাঁর বাসায় নিয়ে একটি ঘরে আটক রাখেন। রাত ২টার দিকে আসামি সাহেদুল ও আজান ঘরে ঢুকে ওই নারীকে ধর্ষণ করে। পরদিন ২৩ এপ্রিল সকালে ভুক্তভোগীর স্বামী ও স্বজনরা তাঁকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

আদমদীঘি থানার ওসি কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ও ভুক্তভোগী নারীকে গতকাল শনিবার আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালত আসামিদের কারাগারে এবং ধর্ষণের শিকার নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সন্তানের সামনে ধর্ষণ
ময়মনসিংহের নান্দাইলে শিশুসন্তানের সামনে এক নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে। ঘটনার পাঁচ দিন পর গতকাল শনিবার দুপুরে এক ইজিবাইক চালকের বাড়ি থেকে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, ২০ এপ্রিল বিকেলে সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি থেকে ভালুকায় শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার উদ্দেশে রওনা দেন ওই নারী। কিন্তু এক পর্যায়ে তিনি পথ হারিয়ে ফেলেন। সাহায্যের কথা বলে কয়েকজন অপরিচিত লোক তাঁকে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। প্রথমে একটি বিলের কাছে নিয়ে তাঁকে চারজন মিলে এবং পরে একটি বাড়িতে নিয়ে আরও দুজন ধর্ষণ করে। ভুক্তভোগী বাধা দিতে গেলে তাঁর সন্তানকে মারধর করে তারা। ঘটনার পর এক ইজিবাইকচালক অসুস্থ অবস্থায় ওই নারীকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। পরে গতকাল নান্দাইল থানা পুলিশ খবর পেয়ে তাঁকে উদ্ধার করে।

নান্দাইল মডেল থানার ওসি আজহারুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগীর দাবি, তিনি দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থানায় রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য রোববার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

সাতকানিয়ায় নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় স্বামীকে ফিরিয়ে আনার জন্য ঝাড়ফুঁক করতে ওঝার কাছে যাওয়া এক নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবারের এ ঘটনায় মামলার পর সজল কান্তি দাস নামের ওঝাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

এদিকে ভিডিও ধারণ করে সাংবাদিক পরিচয়ে সজলকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করায় তিন যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন সজলের স্ত্রী। এ মামলায় গ্রেপ্তার তিনজন হলো– জাহাঙ্গীর আলম, নুরুল আবছার ও জয়নাল উদ্দিন। শনিবার উভয়পক্ষই সাতকানিয়া থানায় ধর্ষণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে। 

সাতকানিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুদীপ্ত রেজা জয়ন্ত বলেন, চার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় ছাত্রীকে (১৯) ধর্ষণের অভিযোগে কুতুবপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার রাতে পশ্চিম মির্জা নগর গ্রামের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। দেলোয়ারকে শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে ২৩ এপ্রিল দুই স্কুলশিক্ষকের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় পাঁচজনের বিরুদ্ধে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। মামলার অন্য আসামি হলেন তিন তক্তা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শংকর চন্দ্র মজুমদার।

ভুক্তভোগী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৬ মার্চ দেলোয়ার হোসেন ছাত্রীকে ফুসলিয়ে একটি প্রাইভেট রুমে নিয়ে যান। সেখানে তাকে দিয়ে জোরপূর্বক কিছু আপত্তিকর স্বীকারোক্তি কাগজে লিখিয়ে নেন এবং ভিডিও ধারণ করেন। পরে ওই ভিডিও ও কাগজের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করে বিয়ের প্রলোভনে দীর্ঘ সময় ধরে একাধিক স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। এই কাজে সহযোগিতা করেছেন শংকর।
(সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য)

আরও পড়ুন

×