ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

গাছ কাটার ভিডিও করায় বনকর্মীদের ওপর হামলা

গাছ কাটার ভিডিও করায় বনকর্মীদের ওপর হামলা
×

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৫৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বন বিভাগের আওতাধীন কেওড়া বাগানের গাছ কাটার তথ্য পেয়ে ভিডিও করার সময় বনকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ধুলাস্বার ইউনিয়নের তেত্রিশকানী এলাকায় এই হামলা হয়। এ বিষয়ে সেদিনই থানায় লিখিত অভিযোগ দেন কুয়াকাটা ফরেস্ট ক্যাম্প কর্মকর্তা মো. রুবেল মিয়া।
লিখিত অভিযোগে তেত্রিশকানী এলাকার আলামিন ফকির, আবু সালেহ ফকির, খালেক ফকির, কাওসার ও মোশাররফ হাওলাদারসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে দায়ী করা হয়। এতে বলা হয়, তেত্রিশকানী কেওড়া বাগান এলাকা থেকে সংঘবদ্ধ চক্র অবৈধভাবে কেওড়া গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে বলে সংবাদ আসে। বন বিভাগের কর্মীরা গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাছ কাটার ছবি ও ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করেন রুবেল মিয়া। 

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বন বিভাগের কর্মকর্তা রুবেল মিয়ার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে এতে ধারণ করা ছবি-ভিডিও মুছে ফেলে। বনকর্মীরা বাধা দিলে তাদের ওপর ইট, দা, লাঠি, কুড়াল ও করাত দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে রুবেল মিয়া ও কয়েকজন কর্মী আহত হন। এমনকি, এক কর্মীর মানিব্যাগ থেকে তিন হাজার টাকাও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ইব্রাহিমের ভাষ্য, তারা ফরেস্ট বিভাগের কাছাকাছি বসবাস করেন। গত বৃহস্পতিবার হঠাৎ আবু সালেহের বাড়ির সামনে লোকজন দেখতে পেয়ে সেখানে যান। এ সময় বন বিভাগের লোকজনকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে দেখেন। একই সঙ্গে তাদের চড়থাপ্পড় মারতেও দেখেছেন। তিনি বলেন, আবু সালেহ ফকির ও তাঁর ভাই-ভাতিজাদের নেতৃত্বে এই হামলা হয়।

রুবেল মিয়া বলেন, ‘সরকারি বনজ সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে আমরা হামলার শিকার হয়েছি। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।’
আবু সালেহ ফকিরের ভাষ্য, ‘আমার বাড়ির সামনে এসে তারা অভিযোগ তোলেন, আমি রেইন্ট্রি কেটেছি। কিন্তু সেটি চাম্বল গাছ ছিল। তার পরও আমাকে শুধু শুধু দোষারোপ করে আমার কাছে দুই হাজার টাকা ঘুষ চেয়েছে ওই বন কর্মকর্তা। আমি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানাই। এ কারণে আমার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনেছেন।’ তিনি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া, টাকাপয়সা লুটের অভিযোগ অস্বীকার করেন।
বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনা পরপরই বিষয়টি তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন। অভিযুক্ত আবু সালেহ তাঁর কাছে টাকা দাবির পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন। এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এর কোনো প্রমাণ মেলেনি।

আরও পড়ুন

×