পরিদর্শনে এসে ভোগান্তির চিত্র পেলেন কর্মকর্তা
ভেড়ামারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৫৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর ভোগান্তির শেষ নেই। গতকাল শনিবার উপজেলার পরানখালি থেকে এসেছিলেন আরিফা সুলতানা। বহির্বিভাগে মেডিসিন বিভাগের
চিকিৎসক দেখানোর জন্য এলে জানতে পারেন চিকিৎসক নেই।
এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে আরিফা বলেন, ‘আমার সঙ্গে আরও দুজন এসেছেন ডাক্তার দেখানোর জন্য। সেই ডাক্তারও আজকে আসেননি। কয়দিন থেকে ঘুরছি, কোনো লাভ হচ্ছে না।’
রোগীর দুর্ভোগের বিষয়ে তথ্য পেয়ে এদিন আকস্মিক হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান। তিনি বহির্বিভাগে দুজন কনসালটেন্টকে পাননি। কোনো কারণ ছাড়াই অনুপস্থিত চিকিৎসকদের শোকজ করতে নির্দেশনা দেন তিনি।
সাংবাদিকদের কাছে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান বহির্বিভাগে যান। সেখানে রোগীদের নানা অভিযোগ শোনেন তিনি। মোহন ইসলাম নামের এক ব্যক্তি বলেন, তাঁর নিজের ও মায়ের ইসিজি করার প্রয়োজন হয়েছিল। এ জন্য বাইরে থেকে মেশিন আনার কথা বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত টাকা নিয়েছে।
নওদাপাড়ার ইদ্রিস আলীর মেয়ে নিলুফা ইয়াসমিন অভিযোগ করেন, মাস তিনেক আগে তিনি বিষপান করেছিলেন। তখন তাঁর পাকস্থলী পরিষ্কার করার জন্য দুই হাজার টাকা নিয়েছেন কর্মীরা।
এসব তথ্য তুলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মিজানুর রহমানকে প্রশ্ন করলে তিনি চুপ থাকেন। পরে ডা. মিজানুর রহমান জানান, দুজন কনসালটেন্ট সপ্তাহে তিন-চার দিন করে আসেন। একজন আসেন চার-পাঁচ দিন করে।
গত দুই মাস ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নজর রেখে কনসালটেন্টদের আসা-যাওয়ার তথ্য সংগ্রহ করেন এই প্রতিবেদক। মেডিসিন বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. কাজী নাজমুল হক শাওন বহির্বিভাগে রোগী দেখেন তিন দিন– রবি, সোম ও বৃহস্পতিবার। শনিবার তিনি হাজিরা দিয়েই চলে যান। সার্জারি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. মো. ইকরামুল হক সপ্তাহে আসেন দুই দিন– রবি ও বুধবার। অর্থোপেডিক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মো. ওবায়দুর রহমান রবি ও বুধবার ছাড়া চার দিন আসেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান রোগী ও সাংবাদিকদের কাছে পাওয়া অনিয়ম সমাধানে জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস এম কামাল হোসেন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমানকে নির্দেশ দেন। বিধি অনুযায়ী সব কনসালটেন্টকে ছয় দিন হাসপাতালে আসার নির্দেশনা দেন তিনি।
- বিষয় :
- স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
