ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ভিজিডির চাল আত্মসাৎ, দ্বিগুণ মূল্য ফেরত দিলেন চেয়ারম্যান

ভিজিডির চাল আত্মসাৎ, দ্বিগুণ মূল্য ফেরত দিলেন চেয়ারম্যান
×

নাটোরের সিংড়ায় চেয়ারম্যানের আত্মসাৎকৃত ভিজিডি চালের দ্বিগুণ মূল্য আদায় করে তা গতকাল শনিবার উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ করা হয় সমকাল

সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:০৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

নাটোরের সিংড়ায় উপকারভোগীদের মধ্যে ভিডব্লিউবির (ভিজিডি) চাল বিতরণ না করে আত্মসাৎ করায় অভিযুক্ত চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন দ্বিগুণ মূল্য ফেরত দিয়েছেন। তাঁর কাছ থেকে ওই অর্থ আদায় করে উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে সুকাশ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে মার্চ মাসের আত্মসাৎকৃত ভিডব্লিউবি কর্মসূচির ২৪৭ জন উপকারভোগীর ৭ দশমিক ৪১০ টন চালের সরকারি হিসেবে দ্বিগুণ মূল্য আট লাখ ৪৫ হাজার ৮৩০ টাকা চেয়ারম্যানের কাছ থেকে আদায় করা হয়। পরে উপকারীভোগীদের মাঝে সেই টাকা বিতরণ করেন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত, মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা সুমি আকতারসহ পরিষদের সদস্যরা।

এ ছাড়া উপকারভোগীদের কাছ থেকে ব্যাংক একাউন্ট খোলার নামে জনপ্রতি এক হাজার টাকা এবং আট মাসের জমাকৃত সঞ্চয়ের (প্রতি মাসে জনপ্রতি ২২০ টাকা) তছরুপকৃত অর্থের সমপরিমাণ টাকাও অভিযুক্ত চেয়ারম্যানকে দ্রুত প্রত্যেক উপকারভোগীর নিজ নামে ব্যাংক একাউন্ট খুলে তাতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
‘দুস্থদের ৭ টন চাল বিক্রি করে দিলেন ইউপি চেয়ারম্যান’ শিরোনামে গত ৩ এপ্রিল দৈনিক সমকালে সংবাদ প্রকাশ হয়। এর পর নাটোরের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মাশুকাতে রাব্বিকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়।

জানা যায়, গত ৫ মার্চ উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে সুকাশ ইউনিয়ন পরিষদের ২৪৭ জন দুস্থ নারীর জন্য ভিডব্লিউবি কর্মসূচির (ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট, সাবেক ভিজিডি) আওতায় বরাদ্দকৃত মার্চ মাসের ৭ দশমিক ৪১০ টন চাল উত্তোলন করেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক এবং সুকাশ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন। উত্তোলনকৃত সেই চাল উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ না করে রাতারাতি কালো বাজারে বিক্রি করে দেন তিনি। একই সঙ্গে ২৪৭ জন উপকারভোগীর কাছ থেকে ব্যাংক একাউন্ট খোলার নামে জনপ্রতি এক হাজার ও আট মাসের সঞ্চয় হিসেবে প্রতি মাসে জনপ্রতি ২২০ টাকা জমা নিলেও ব্যাংক একাউন্টে জমা না করার অভিযোগ উঠে তাঁর বিরুদ্ধে। 

নাটোরের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মাশুকাতে রাব্বিসহ চার সদস্যের তদন্ত কমিটি ৯ এপ্রিল সুকাশ ইউনিয়ন পরিষদের ১২২ জন উপকারভোগী, বিভিন্ন কর্মকর্তা, দৈনিক সমকালের সিংড়া প্রতিনিধি, ইউপি সদস্যসহ অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের লিখিত জবানবন্দি গ্রহণ করে। এতে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায় তদন্ত কমিটি। 
তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, সমকালে সংবাদ প্রকাশের পর তদন্তে সোহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়। জনপ্রতি উপকারভোগীর ৩০ কেজি চালের সরকারি হিসেবে মূল্য এক হাজার ৭১২ টাকা নির্ধারণ হয়েছে। দ্বিগুণ মূল্য জনপ্রতি তিন হাজার ৪২৫ টাকা করে অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের কাছ থেকে আদায় করে উপকারীভোগীদের মাঝে বিতরণ করা হয়। তিনি বলেন, ব্যাংক একাউন্ট খোলার নামে ও সঞ্চয়ের আদায়কৃত টাকাও আগামীকালের মধ্যে সব উপকারভোগীর নিজ নামের একাউন্টে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 
নাটোর জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বলেন, অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিডব্লিউবি কর্মসূচির চাল আত্মসাতের সত্যতা পাওয়া গেছে।  তদন্ত প্রতিবেদন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

আরও পড়ুন

×