সাত বছরের শিশুকে ২১ বছর উল্লেখ করে মামলা
আইনজীবীর সঙ্গে ভুক্তভোগী শিশু
নাটোর সংবাদদাতা
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | ২২:০৬ | আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | ২২:০৭
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় সাত বছরের শিশুর বয়স ২১ বছর দেখিয়ে হত্যাচেষ্টার মামলা করা হয়েছে। আজ রোববার সেই শিশু আদালতে জামিন নিতে এলে ঘটনা জানাজানি হয়। এরপর শিশুটির জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন বিচারক। সেই সঙ্গে বাদীকে আদালতে তলব করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশুর বাড়ি গুরুদাসপুরের ধারাবারিষা ইউনিয়নে। সে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র। আজ দুপুরে বিদ্যালয়ের পোশাক পরে গুরুদাসপুর থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি হিসেবে শিশু আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করে শিশুটি।
আদালত ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবী সূত্র জানায়, আসামির বয়স সম্পর্কে তার আইনজীবীকে প্রশ্ন করেন আদালতের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। আইনজীবীর দেওয়া তথ্য ও কাগজপত্র যাচাই করে বিচারক আসামির বয়স সাত বছর সাত মাস দুই দিন নির্ধারণ করেন। গুরুদাসপুর থানার ওসির নিবন্ধিত প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে (এফআইআর) শিশুটির বয়স ২১ বছর লেখা থাকা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। শিশুটির পক্ষে কাউকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যাচেষ্টা করার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করেন। পরে বিচারক শিশুটিকে ৫০০ টাকা জামানতে একজন আইনজীবীর জিম্মায় জামিন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে মামলার বাদী শাহানুর রহমানকে আগামী ধার্য তারিখে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য তলব করেন।
আসামি পক্ষের আইনজীবী শামীম উদ্দীন প্রামাণিক বলেন, বাদী আক্রোশবশত শিশুটির বয়স ২১ বছর দেখিয়ে মামলা করেছেন। জন্মনিবন্ধন অনুসারে তার বয়স সাত বছর সাত মাস দুই দিন। এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর আদালত জামিন মঞ্জুর করেছেন।
ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বলেন, ‘আমার ছেলে মামলার কথিত ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানে না। ঘটনার সময় (৯ এপ্রিল) সে স্কুলের ক্লাসে ছিল। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি লিখিতভাবে নিশ্চিত করেছেন।’ এ ঘটনায় বাদীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তিনি।
জানতে চাইলে বাদী শাহানুর রহমান বলেন, ‘আমরা অনুমান করে ২১ বছর লিখেছিলাম। আমার ছেলেকে মারা হয়েছে। সে যার যার নাম বলেছে, তাদের আসামি করা হয়েছে।’
গুরুদাসপুর থানার ওসি মনজুরুল আলম বলেন, ‘গত ৯ এপ্রিল বিদ্যালয়ের মাঠে সংঘটিত একটি মারামারির ঘটনা নিয়ে মামলাটির উদ্ভব হয়েছে। সাত বছরের শিশুকে আসামি করার বিষয়টি পুলিশের জানা ছিল না। মামলার তদন্ত শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার সময় শিশুটির নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া হবে।’
- বিষয় :
- নাটোর
- মামলা
- হত্যাচেষ্টা
- আদালত
