বাগেরহাটের শিশুকে শেরপুর সীমান্ত দিয়ে পাচারের চেষ্টা, দুজন গ্রেপ্তার
ফাইল ছবি
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | ২৩:৩৬
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কর্ণঝোড়া সীমান্ত পর্যবেক্ষণ চৌকি (বিওপি) এলাকা থেকে দুই মানব পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে বিজিবি। এ সময় লামিয়া আক্তার নামে ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে উদ্ধার করা হয়। সে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার মো. কামরুলের মেয়ে।
গ্রেপ্তার দুই যুবক হলেন– ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার উত্তর চৈগরি গ্রামের আব্দুর রেজ্জাক ও শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার বড়ইকুচি গ্রামের রিপন মিয়া।
রোববার দুপুরে গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। শিশু লামিয়া ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। পরে শুনানির দিন ধার্য করে বিচারক দুই মানব পাচারকারীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
জানা গেছে, মানবপাচার, মাদক ও ভারত থেকে গোপনে পণ্য নিয়ে আসার নিরাপদ রুট সিংগাবরুনা ইউনিয়নের পাহাড়ি জনপদ বাবেলাকোনা ও হারিয়াকোনা। এই সীমান্তের ১০৯৩ নম্বর পিলার দিয়ে রাতের আঁধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে চলে এসব অবৈধ কার্যক্রম।
সিংগাবরুনা ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার আনোয়ার হোসেন জানান, গোপন সংবাদে তারা জানতে পারেন একজন অচেনা ব্যক্তি একটি শিশুকে নিয়ে স্থানীয় রিপনের বাড়িতে অবস্থান করছেন। শিশুটি কান্নাকাটি করছে। গত শুক্রবার ওই বাড়ি থেকে রেজ্জাক ও শিশুটিকে পরিষদে আনা হয়। পরে জানা যায়, শিশুটির মা দিল্লিতে থাকেন। অবৈধ পথে তাঁকে সেখানেই পাঠানোর প্রস্তুতি চলছিল। তিনি জানান, বাবা মারা যাওয়ার পর মা দুই সন্তান রেখে আরেকটি বিয়ে করে দিল্লিতে চলে যান লামিয়ার মা। পরে রিপনের জিম্মায় শিশুটিকে রাখা হলে শনিবার রাতে তাদের আটক করে বিজিবি।
এ ঘটনায় মামলা করেছেন বিজিবি কর্ণঝোড়া বিওপির ইনচার্জ নায়েক সুবেদার সাইদুর রহমান। রোববার সকালে শিশুসহ তিনজনকে শ্রীবরদী থানায় হস্তান্তর করে বিজিবি।
শ্রীবরদী থানার উপপরিদর্শক মোরশেদ আলমের ভাষ্য, রোববার দুপুরে শিশুটি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। তাঁর ফুফাতো ভাই লিটন এসেছেন। শিশুটিকে আদালত কার জিম্মায় দেবেন সেই আদেশ এখনও হয়নি। শুনানির দিন ধার্য করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
