ইমামের ভাতা আত্মসাৎ জামায়াত নেতার
রংপুর অফিস
প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:২৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
রংপুরের বদরগঞ্জে মসজিদের ইমাম না হয়েও সরকার ঘোষিত ইমামের ভাতা নিজের নামে তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মসজিদ কমিটির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক।
অভিযোগে বলা হয়, বদরগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পলিখিয়ার জামে মসজিদের নিয়োগপ্রাপ্ত ইমাম হচ্ছেন মাওলানা মিজানুর রহমান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ইমামতি করে আসছেন। সরকার ঘোষিত ২০২৬ সালের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম ভাতা প্রকল্পে ওই মসজিদের খাদেম ও মুয়াজ্জিনের নাম অন্তর্ভুক্ত হলেও ইমাম মিজানুর রহমানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সেখানে ইমাম হিসেবে নয়ন মিয়া নামে এক জামায়াত নেতার নাম সরকারি প্রকল্পে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এ কারণে মসজিদটির প্রকৃত ইমাম সরকারি ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
আবু বক্কর সিদ্দিকের অভিযোগ, তাদের মসজিদের ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান সরকারি ভাতা না পাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারছিলেন না। পরে তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, মিজানুর রহমানের পরিবর্তে জামায়াতে ইসলামীর বদরগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়ন শাখার সেক্রেটারি নয়ন মিয়া জালিয়াতির মাধ্যমে ইমাম হিসেবে নিজের নাম ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ভাতা উত্তোলন করেছেন। এ ঘটনায় তিনি গত ২৯ মার্চ জেলা প্রশাসক ও বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, সরকারিভাবে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমের তালিকা চাওয়া হলে তারা মসজিদের পক্ষে ইমাম হিসেবে মিজানুর রহমানসহ খাদেম ও মুয়াজ্জিনের নাম সঠিকভাবে জমা দেন। কিছুদিন ধরে জামায়াত নেতা নয়ন মিয়া মসজিদে এসে নামাজ পড়ানো শুরু করেন। এতে মুসল্লিদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
মসজিদের ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন, মসজিদ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি সেখানে নিয়মিত ইমামতি করে আসছেন। কিন্তু হঠাৎ করে তাঁর পরিবর্তে অন্য একজন ইমাম হিসেবে সরকারি তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে ভাতা নিচ্ছেন। এতে তিনি বঞ্চিত হচ্ছেন। বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান দাবি করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের ইউনিয়ন সেক্রেটারি নয়ন মিয়া বলেন, ‘ওই মসজিদে স্থায়ী পেশ ইমাম ছিলেন না। স্থানীয়ভাবে আলোচনা করে ইমাম হিসেবে আমার নাম দেওয়া হয়েছে। যিনি অভিযোগ করেছেন, তিনি ওই মসজিদের প্রকৃত সভাপতি নন। মাওলানা মিজানুর রহমান মসজিদটির পেশ ইমাম হিসেবে নন, খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।’
বদরগঞ্জের ইউএনও আঞ্জুমান সুলতানা বলেন, বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- আত্মসাৎ
