থানায় তদবির করতে গিয়ে গ্রেপ্তার বিএনপি নেতা
মাছ লুট ও সংঘর্ষ মামলার আসামি, তবু প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা
সংগৃহীত
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | ১৭:১৩ | আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | ১৭:২৬
পুকুর থেকে জোর করে মাছ ধরার অভিযোগ, প্রতিবাদে করা মানববন্ধনে বাধা এবং সংঘর্ষে নারীসহ ১৮ জন আহত–সব মিলিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগের মামলার প্রধান আসামি হয়েও দীর্ঘদিন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন বিএনপি নেতা মো. আব্দুর রাজ্জাক। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। মামলার তদবির করতে থানায় গিয়েই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি।
সোমবার সন্ধ্যায় তাড়াশ থানা চত্বর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার রাজ্জাক উপজেলার তালম ইউনিয়নের গাবরগাড়ী গ্রামের বাসিন্দা এবং ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
এদিকে, প্রভাবশালী এই নেতার গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসে। অনেকেই পুলিশের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, ‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়–এই বার্তাই দিয়েছে পুলিশ। সেরের ওপর সোয়া সের হয়েছে এবার।’ তারা বলছেন, এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে এমন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি কমে আসবে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার গাবরগাড়ী জামে মসজিদ কমিটির উদ্যোগে চাষ করা একটি পুকুর থেকে জোর করে মাছ ধরে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ইউনিয়ন তাঁতী দলের সভাপতি মো. এনামুল হক এবং বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে ১৫-১৮ জন প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ তুলে নেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে পরদিন ১৮ এপ্রিল মসজিদ কমিটির লোকজন মানববন্ধনের আয়োজন করলে সেখানে বাধা দেওয়া হয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে এবং নারীসহ অন্তত ১৮ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। এরপর ২১ এপ্রিল গ্রামপ্রধান মো. তোজাম্মেল হোসেন বাদী হয়ে সিরাজগঞ্জ মোকাম আমলি আদালতে একটি মামলা করেন। মামলায় আব্দুর রাজ্জাক, এনামুল হকসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়। মামলার প্রধান আসামি ছিলেন রাজ্জাক।
অভিযোগ রয়েছে, মামলার আসামি হওয়ার পরও আব্দুর রাজ্জাক প্রকাশ্যে এলাকায় ঘোরাফেরা করছিলেন এবং নিজের প্রভাব খাটিয়ে বিষয়টি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। এমনকি মামলার তদবির করতে থানায়ও যান তিনি।
তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, আসামি থানায় অবস্থান করছেন– এমন তথ্য পেয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে থানাতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার দুপুরে তাকে সিরাজগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
