ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

কিশোরগঞ্জের হাওরে ঢল ও অতিবৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে ২ হাজার হেক্টর পাকা ধান

কিশোরগঞ্জের হাওরে ঢল ও অতিবৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে ২ হাজার হেক্টর পাকা ধান
×

ছবি: সমকাল

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | ২০:৪৭ | আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | ২১:০১

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কিশোরগঞ্জের ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রামের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে দুই দিনে দুই হাজার হেক্টর পাকা ধান তলিয়ে গেছে।  

রোববার বিকাল থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলের ৩ উপজেলায় বৃষ্টি ও বজ্রপাত হচ্ছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বজ্রপাতের ভয়ে পাকা ধান কাটতে নামতে পারছেন না কৃষকরা।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত রোববার থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার খয়েরপুর, আব্দুল্লাহপুর, আদমপুরসহ অন্যদিকে মিঠামইন উপজেলার ঢাকির হাওর, ঘাগড়ার হাওর, বড় হাওর, মিঠামইনের হাওর এবং ইটনার ডুইয়ারপাড় ও ধনপুরের উত্তর হাওরের প্রায় ২ হাজার হেক্টর পাকা বোরো ধান তলিয়ে গেছে। অষ্টগ্রাম উপজেলার খয়েরপুর, আব্দুল্লাহপুর হাওরে কৃষকরা পানির নিচে আধা পাকা ধান কাটছেন। নৌকা দিয়ে ধান কেটে তীরে শুকনো জায়গায় আনা হচ্ছে। 

কোনো কোনো জায়গায় শ্রমিকরা নয়নভাগায় ধান কাটছেন। অধিকাংশ জমির ধান পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। মাত্র ৪-৫ দিন পর এ সব জমির ধান কেটে ঘরে তোলার কথা ছিল, তা এখন পানির নিচে বলে জানিয়েছেন তারা। 

মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে খয়েরপুর হাওরে ১০ একর জমি আবাদ করেছিলেন কৃষক মজনু মিয়া। তিনি বলেন, আমার সব শেষ। পেপারে দিয়ে কি হবে, সরকার তো আমার টাকা দিত না। আমার ধানগুলো পেকে গিয়েছিল। আর দুই দিন পরে জমিটা কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, এর মধ্যে আল্লাহর গজব পড়েছে। পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব। এই হাওরে এমন অনেক কৃষক রয়েছে, তাদেরও একই অবস্থা।

কৃষকরা দাবি করেন, নদীতে পলি পড়ে নদী ভরাট হওয়া এবং ফসল রক্ষা বাঁধের প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন থেকে মাইকে ঘোষণা দেওয়ার পর আমরা জমি কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, কিন্তু দুই দিনের মধ্যে সব জমি তলিয়ে যাবে—তা বুঝতে পারিনি। তলিয়ে যাওয়া ধানে পচন শুরু হয়েছে।

অষ্টগ্রামের বড় হাওরের কৃষক দানা মিয়া বলেন, পাহাড়ি ঢলের পানি নামলেই এই হাওরে পানি ঢুকে পড়ে। হবিগঞ্জ সীমান্তের খোয়াই নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় প্রতি বছরই অষ্টগ্রাম অংশে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়।

বড় হাওরের কৃষক নজরুল মিয়া জানান, তার ৯ একর জমির মধ্যে ৭ একর তলিয়ে গেছে। পানি যদি আরও বাড়তে থাকে, তাহলে বাকি ২ একরও তলিয়ে যাবে। জমির ধান পানির নিচে থাকায় গোড়ায় পচন ধরেছে।

প্রবল বর্ষণে ধান তলিয়ে গেলেও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কাছে এ সংক্রান্ত ক্ষতির সঠিক হিসাব নেই। তবে কৃষকদের দাবি, আড়াই হাজার হেক্টর বোরো জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কিশোরগঞ্জের হাওরে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। যা থেকে প্রায় ৭ লাখ ৯৬ হাজার মেট্রিক টন চাল পাওয়া যাবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাদীকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নদীর পানি প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার কারণে হাওরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে।

তিনি জানান, পাকা ধান গাছ ৫-৬ দিন পানির নিচে থাকলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে। তবে পানি নেমে গেলে ক্ষতির পরিমাণ কমবে। তাই ৮০ শতাংশ পাকা ধান কেটে ফেলার নির্দেশ দেন তিনি কৃষকদের।

তিনি আরও জানান, হাওরে মঙ্গলবার পর্যন্ত ৪৮ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে।  

আরও পড়ুন

×