ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

দখল-দূষণে বিলীনের পথে ৪০ খাল

দখল-দূষণে বিলীনের পথে ৪০ খাল
×

ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে যাচ্ছে ঢাকার দোহারের একটি খাল সমকাল

 দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৪৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

দোহার উপজেলার বাম তীর ঘিরে পদ্মা নদী। এই নদী থেকে উৎপন্ন হওয়া খালগুলো দখল-দূষণে মৃতপ্রায়। প্রায় ৪০টি খাল দখল-দূষণে বিলীনের পথে বলে জানা গেছে।
নৌপথে সহজ যোগাযোগের কথা চিন্তা করে নদীপাড়ে গড়ে উঠেছে অসংখ্য স্থাপনা, কারখানা ও বসতি। তবে দোহার উপজেলা মৎস্য দলের সভাপতি রমজান হোসেন বলেন, দিন দিন খাল ও নদী সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। বছরের বেশির ভাগ সময়ই নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় এবং অধিকাংশ খাল ভরাটের কারণে এখন আর নৌকা চলে না। এ ছাড়া খালের পানি দূষিত হওয়ায় মাছশূন্য হয়ে গেছে। ফলে বর্ষা মৌসুমেও পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের (ডিও) মাত্রা অনেক কম থাকে। এ কারণে এই নদীতে মাছ বাঁচে না। নদীর পানি জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে একাধিকবার সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

পিচওয়ে হিউম্যান রাইটস দোহার ও নবাবগঞ্জ শাখার সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহীম খলীল সবুজ জানান, দোহার উপজেলার নারিশা, মেঘুলা, জয়পাড়া, বিলাশপুর, মাহমুদপুর, বাহ্রাঘাট এলাকায় নদী ও খালের দুই পাড় দখল করে গড়ে উঠছে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা। উপজেলা শহর জয়পাড়া ও মেঘুলায় অপরিশোধিত বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে খাল ও নদীর পানি। নদীতে অক্সিজেন কমে যাওয়ার জন্য দায়ী স্থানীয়রা। দখল-দূষণ নিয়ে একাধিকবার মানববন্ধন, সভা, সেমিনার করা হয়েছে। কিন্তু প্রশাসন দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় কাজের কাজ কিছুই হয়নি। উল্টো হত্যার হুমকি পেয়েছেন তারা।
দোহারের মাহমুদপুর ইউনিয়নের ফারুক পেশকার জানান, এক সময়ে দোহার উপজেলার পানির প্রধানতম উৎস ও অপরাপর নদ-নদী, খাল-বিল ইছামতি ও পদ্মা নদীর ওপর নির্ভরশীল ছিল। কাজেই এই অঞ্চলের মানুষের দাবি পুরোনো খালগুলোর প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়া। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এই অঞ্চলের ৫০টির বেশি খাল ও নদী খননের বৃহৎ প্রকল্প হাতে নেবে বলে জানিয়েছে ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক।

পরিবেশ আন্দোলন দোহার পৌর শাখার সভাপতি মনির হোসেন বলেন, কেউ কেউ নদী থেকে বালু উত্তোলন করে সেই বালু নদীর শাখা খালে ভরাট করে দখল করছে। খনন করে খাল ও নদীর প্রাণ ফিরিয়ে আনতে বিজ্ঞানসম্মত ও কার্যকর মহাপরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

বিগত সরকারের আমলে যারা বালু সন্ত্রাস চালিয়েছে, তাদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মনিরুল ইসলাম জীবন বেপারী।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের দোহার উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী রাজু আহমেদের ভাষ্য, প্রায় ২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে মুকসুদপুর ইউনিয়নের মইতপাড়ার দুই কিলোমিটার খালের সংস্কার কাজ শেষ পর্যায়ে। আরও বেশ কয়েকটি খাল খননের চাহিদা পাঠানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ে। 
তিনি আরও অনুমোদন পেলে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নতুন খাল খনন ও সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।
এ প্রসঙ্গে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাঈদুল ইসলাম বলেন, খাল দখলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বন্ধ হয়ে যাওয়া খালের বিবরণ পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব খাল অবমুক্ত করা হবে।

আরও পড়ুন

×