ব্যবসায়ীকে রাস্তা থেকে তুলে টাকা হাতিয়ে নেন এএসআই
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৪৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে এক ব্যবসায়ীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে আটকে রেখে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। ওই ব্যবসায়ীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত এএসআইকে গতকাল মঙ্গলবার থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনার দিন গত রোববার রাতে ব্যবসায়ীর সঙ্গে আরেক ব্যক্তিকেও তুলে নেওয়া হয়। তাঁর কাছ থেকে সাড়ে ৯ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন ওই পুলিশ সদস্য।
গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী থানার রুবেল ফিলিং স্টেশনের সামনে গত রোববার রাত ১০টার পর এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত এএসআই আজিজুল হক কোনাবাড়ী থানায় কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের কথা বলেছেন। অভিযুক্ত এএসআইর সঙ্গে একজন কনস্টেবল ছিলেন বলেও জানা গেছে। তবে তাঁর নাম জানা যায়নি।
গতকাল দুপুরে কোনাবাড়ীর রাজাবাড়ি এলাকার আবুল কালামের ছেলে ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে অভিযুক্ত এএসআই আজিজুল হককে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানান কোনাবাড়ী থানার ওসি ইফতেখার হোসেন।
ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন বলেন, গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় তিনি প্রিন্টিং ব্যবসা করেন। গত রোববার রাত ১০টার দিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে তিনি বাসায় ফিরছিলেন। রুবেল ফিলিং স্টেশন এলাকায় অটোরিকশায় থেকে নেমে চান্দনা চৌরাস্তা-কালিয়াকৈর সড়ক পার হচ্ছিলেন।
এ সময় হঠাৎ আরেকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা এসে তাঁর পেছনে থামে এবং তাঁকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাঁকে বাইমাইল হরিণচালা এলাকার কাশেম কটনের পূর্ব পাশে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি। সেখানে নিয়ে তাঁকে মারধর করা হয়।
একপর্যায়ে তাঁর সামনে একটি পলিথিনে থাকা ইয়াবা ট্যাবলেট দেখিয়ে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানো হয়। এরপর তাঁর কাছে থাকা নগদ ২৮ হাজার ৪০০ টাকা ছিনিয়ে নেন ওই পুলিশ সদস্য।
দেলোয়ার হোসেন বলেন, তাঁর সঙ্গে অটোতে সিফাত আহমেদ নামে আরও এক যাত্রী ছিলেন। তাঁর মোবাইল ফোনে অনলাইনে জুয়া সংক্রান্ত অ্যাপস থাকার অভিযোগে তাঁকেও আটক করা হয়। পরে সিফাতের কাছ থেকেও টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হলে তিনি তাঁর ভাইকে ফোন করেন।
পরে সিফাতের ভাই তাঁর এমএফএস নম্বরে দুই হাজার ৪০০ টাকা পাঠান। পরে সিফাতকে বাইমাইল মসজিদ মার্কেট এলাকায় নিয়ে গিয়ে তাঁর এমএফএস অ্যাকাউন্ট থেকে আরও ৭ হাজার ২০০ টাকা উত্তোলন করা হয়।
দেলোয়ার হোসেন বলেন, পরে তাঁর হাতে ৪০০ টাকা দিয়ে আবার সেই আগের জায়গায় নামিয়ে দেওয়া হয়।
জিম্মি দশা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর দেলোয়ার বিভিন্ন লোকজনকে বিষয়টি জানান। এরপর রাত ২টার দিকে এএসআই আজিজুল হকসহ ৮ জন পুলিশ সদস্য তাঁর বাসায় গিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন।
জানতে চাইলে অভিযুক্ত এএসআই আজিজুল হক সমকালকে বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এ সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না।
কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হোসেন বলেন, আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত এএসআই আজিজুলকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
- বিষয় :
- টাকা ছিনতা্ই
