ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

সিলেটে বন্যা-জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে আসছে বড় প্রকল্প

সিলেটে বন্যা-জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে আসছে বড় প্রকল্প
×

সুরমা নদীর তীরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (ছবি- ইউসুফ আলী)

মুকিত রহমানী, সিলেট 

প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬ | ১৪:৩৭ | আপডেট: ০২ মে ২০২৬ | ১৫:২২

২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার পর সামনে চলে আসে সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় সুরমা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ইস্যুটি। কিন্তু এত বড় প্রকল্পে সরকার কতটুকু এগিয়ে আসবে সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। গত কয়েক বছর ধরে প্রকল্পটি নিয়ে নানা গবেষণা ও বিশ্লেষণ করা হয়। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তা পাঠানো হয় মন্ত্রণালয়ে। প্রকল্পটিতে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকার সেটি গ্রহণ করে প্রাথমিকভাবে ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এরমধ্যে সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পে ৮০ কোটি টাকাও রয়েছে। প্রকল্পটি এখনও একনেকে অনুমোদন হয়নি। শনিবার সেই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই সময় তিনি প্রকল্পের অগ্রগতি ও পরিকল্পনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, নগরীকে আগাম বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা করতে মেগা এ প্রকল্প হাতে নেয় সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে সুরমা নদীর সংযোগস্থলে জলকপাট বা স্লুইস গেট নির্মাণ, পাড় উঁচু করা ও পাম্প স্থাপনের পরিকল্পনার কথা রয়েছে প্রকল্পে। ভৌগোলিকভাবে নগরীর ভেতরে রয়েছে ১৮টি প্রাকৃতিক ছড়া-খাল মিলিত হয়েছে সুরমা নদীতে। বর্ষাকালে নদী উপচে ছড়াগুলো দিয়ে পানি প্রবেশ করে নগরীতে। ফলে জলাবদ্ধতা ও বন্যা দেখা দেয়। অতীতের বন্যার অভিজ্ঞতার আলোকে পানি বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাতসহ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সভা ও সেমিনার করে সিসিক। 

সুরমা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জানা গেছে, প্রকল্পটিতে তিনটি স্থানে কাজীরবাজারের বৈঠাখাল, ছড়ার পাড় এলাকার গোয়ালীছড়া ও বোরহানউদ্দিন এলাকার হলদিছড়া এলাকা স্লুইস গেট প্রস্তাব করা হয়েছে। স্লুইস গেটগুলোর পাশে পাম্প বসানো হবে যাতে পানি নিষ্কাশন করা যায়। এছাড়া সিটি এলাকার নদীর দুই পাড় উঁচু করা ও নিচু জায়গায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ দেয়াল নির্মাণের প্রস্তাব করা হয় প্রকল্পে।

সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী মো. আলী আকবর জানিয়েছেন, মূলত বন্যা নিয়ন্ত্রণ করতে আমরা প্রকল্পের প্রস্তাব করেছি। আশা করি, সরকার শিগগির তা অনুমোদন করবে।

নগরবাসী মনে করছেন, প্রকল্পটি কঠিন হলেও বাস্তবায়নের পর ফলাফল পাওয়া যাবে সুদূরপ্রসারী। এর কম একটি প্রকল্পের দাবি উঠে কয়েক বছর আগে। সিলেটবাসীর দাবি নিয়ে আন্দোলনকারী সংগঠন সিলেট কল্যাণ সংস্থার সভাপতি এহসানুল হক তাহের বলেন, প্রকল্পটি সিলেটের জন্য একটি স্বপ্ন। বাস্তবায়ন জরুরি। ভিত্তিপ্রস্তরে সীমাবদ্ধ না রেখে সরকার দ্রুত তা বাস্তবায়ন করলে নগরবাসী বন্যার কবল থেকে রক্ষা পাবে।

 

আরও পড়ুন

×