সড়কের ওপর চালের হাট বাড়ছে যানজট, ঝুঁকি
ফুলাবাড়ী-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে ফুলবাড়ী পৌর শহরের উর্বশী সিনেকমপ্লেক্সের সামনের সড়কে অবৈধ চালের হাট। গতকাল শনিবার তোলা -সমকাল
আজিজুল হক সরকার, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর)
প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬ | ০৮:০২
| প্রিন্ট সংস্করণ
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের সবচেয়ে ব্যস্ত এলাকা ফুলবাড়ী পৌরশহরের উর্বশী সিনেকমপ্লেক্সের সামনের সড়ক। সেই সড়কের ওপরেই বসছে চালের হাট। অবৈধভাবে বসা বাজারের কারণে যানজটের পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
স্থানীয়রা জানান, এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে বিভিন্ন রুটের ছোট-বড় যানবাহন। এর মধ্যেই সড়কের ওপর হাট বসায় তা যাত্রী ও যানবাহনের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। ঝুঁকিতে থাকতে হচ্ছে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের। এরপরও সড়কের ওপর এই অবৈধ চালের হাটবাজার বন্ধের ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। ৫-৬ যুগ ধরে এভাবেই হাটটি বসছে বলে জানান স্থানীয়রা।
ওই এলাকার পুস্তক ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক ও ঔষধ বিক্রেতা নুরাদ আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যস্ততম আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর চালের হাট বসছে। এতে যানবাহন, পথচারীসহ ক্রেতা ও বিক্রেতা সবাইকে ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হচ্ছে। এই পথ দিয়ে ছোট যমুনা নদীর পশ্চিম প্রান্তের ফুলবাড়ী সরকারি কলেজ, শহীদ স্মৃতি আদর্শ কলেজ, দারুস সুন্নাহ সিদ্দিকীয় মাদ্রাসা ও অন্তত সরকারি ও বেসরকারি ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
স্থানীয় পরিবহন কর্মী মিজানুর রহমান এবং শ্রমিক আব্দুস ছালাম বলেন, ব্যস্ততম এলাকার সড়কের ওপর চালের হাটবাজার বসানোর কারণে প্রায়ই এখানে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। তাছাড়া হাটের কারণে সড়ক সরু হয়ে পড়ায় যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সড়ক থেকে চালের হাট সরিয়ে নেওয়া একান্ত প্রয়োজন।
আঞ্চলিক মহাসড়কে চালের দোকান বসিয়ে বেচাবিক্রি করা উপজেলার গোকুল গ্রামের বাবলু রায়, সনদ কুমার, দিলিপ বলেন, কয়েক যুগ থেকে এই সড়কের ওপরই সকালে চালের বেচাবিক্রি হয়ে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় এখনও চালের ক্ষুদ্র প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতারা (কুটাইয়া) এখানেই তাদের হাসকিং মিলের তৈরি চাল বিক্রি করতে আসেন। এখান থেকেই স্থানীয়রা বাসাবাড়িতে খাওয়ার জন্য চাল কিনে থাকেন। বড় দোকানের চেয়ে দামে সস্তা হওয়ায় এখানে সকালে চালের বেচাবিক্রি একটু বেশি হয়। দুপুর ১২টার মধ্যেই চালের হাট উঠে যায় বলে জানান তারা।
আরেক ক্ষুদ্র চাল ব্যবসায়ী সেনড়া গ্রামের সুশীল কুমার ও মো. আসলাম বলেন, আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর চালের হাটবাজার বসানোয় ঝুঁকি তো রয়েছেই। তবে কী করা যাবে, ব্যবসা তো করে খেতে হবে। গাড়িঘোড়ার কারণে নিজেরও ভয় লাগে, তারপরও জীবনের ঝুঁকি থাকলেও দীর্ঘদিন থেকে এখানেই বাড়িতে সেদ্ধ-শুকানোর পর তৈরি করা চাল বিক্রি করতে নিয়ে আসা হয়।
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ও ভারপ্রাপ্ত পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লুৎফুল হুদা চৌধুরী লিমন বলেন, চালের হাটবাজার তো দীর্ঘদিন ধরে বসছে। এখন অবশ্য সড়কের ওপর চলে এসে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। পৌরসভার প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দিনাজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (ফুলবাড়ী সড়ক উপ-বিভাগ) মো. আমানউল্লাহ আমান বলেন, আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর দোকানপাট তৈরি করে ব্যবসা করার সুযোগ নেই। পৌর কর্তৃপক্ষ, উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথভাবে হাটবাজার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।
ফুলবাড়ী পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সামিউল ইসলাম বলেন, সড়কপথকে ঝুঁকিমুক্ত করতে সড়কের ওপর থেকে চালের হাট অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- হাট-বাজার
