নালার মুখ আটকে মাছ চাষ ডুবছে শতাধিক একরের ধান
রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করে গতকাল শনিবার কৃষকদের বিক্ষোভ সমকাল
রংপুর অফিস
প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬ | ০৮:১৩ | আপডেট: ০৩ মে ২০২৬ | ১১:৫০
| প্রিন্ট সংস্করণ
রংপুরের তারাগঞ্জে পানি নিষ্কাশনের নালার মুখে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। এতে টানা বৃষ্টিতে এলাকার পানি নামতে না পেরে উপজেলার ফলিমারীর দোলায় (বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠ) সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে শতাধিক একরের বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম। ফসলহানির আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক।
ভুক্তভোগী কৃষকরা গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধসহ বিক্ষোভ করেন। তারা দ্রুত ওই বাঁধ অপসারণ করে পানি নিষ্কাশনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। প্রায় আধাঘণ্টা কৃষকরা তারাগঞ্জ চৌপথী এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করেন।
কৃষকদের অভিযোগ, উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের ফলিমারীর দোলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ২৫০ একর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। বর্ষার সময় ওই দোলার পানি ফলিমারী বিল হয়ে সতীপাড়া ঘাট দিয়ে চিকলী নদীতে নেমে যায়। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের এ পথে সতীপাড়া ঘাটের অদূরে কুর্শা গ্রামের খলিলুর রহমান নামে এক
ব্যক্তি মাছ চাষের জন্য বাঁধ দিয়েছেন। এতে পানি নিষ্কাশন পুরোপুরি বন্ধ। দুদিনের টানা বৃষ্টিতে জমে থাকা পানি বের হতে না পারায় মাঠজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা।
গতকাল শনিবার সরেজমিন দেখা যায়, ফলিমারী দোলার মাঠজুড়ে থইথই পানি। কোথাও পানির ওপর ধানের শীষ ভেসে আছে। বাঁধ প্রদানকারী খলিলুর রহমান বলেন, আমি মাছ চাষ করার জন্য বাঁধ দিয়েছি। এটা সরকারি কোনো খাল নয়। এই নালা দিয়ে পানি গেলে আমার জমির ফসলের ক্ষতি হবে। প্রায় তিন লাখ টাকার মাছ ছেড়েছি। আমাকে ক্ষতিপূরণ না দিলে বাঁধ কেটে দেব না।
ইউএনও মোনাব্বের হোসেন বলেন, বিষয়টি জানার পর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে সেখানে পাঠানো হয়েছিল। দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়েছে– ক্ষতিপূরণ দিয়ে বাঁধ অপসারণ করা হবে। আপাতত মাছ রক্ষায় জাল দিয়ে নালার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- রংপুর
- পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা
- মহাসড়ক অবরোধ
