ছয় পরিবারের ২১ সদস্য ছয় মাস বাড়িছাড়া
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬ | ০৮:১৫ | আপডেট: ০৩ মে ২০২৬ | ১০:৪৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
তাড়াশে ফসলি জমি কেনাকে কেন্দ্র করে গ্রামপ্রধানরা পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছিলেন। এ দাবি পূরণ না হওয়ায় ছয়টি পরিবারের নারী-শিশুসহ ২১ জন সদস্য প্রায় ৬ মাস ধরে বাড়িছাড়া হয়ে অন্যত্র বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের বলভা গ্রামে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলো গতকাল শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে। সেখানে তারা জানান, প্রতিকার চেয়ে তাড়াশ থানাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেও প্রতিকার পাননি।জানতে চাইলে তাড়াশ থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। ঘটনাস্থলে একাধিকবার পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারকে এজাহার দাখিলের জন্য ডাকা হয়েছিল। তারা আসেননি।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের পক্ষে মো. রুবেল রানা লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিবারগুলোর নারী সদস্য জাহেরা খাতুন, আমিনা খাতুন, ফুয়ারা খাতুন, নাসরিন খাতুনসহ শিশু ও পুরুষ সদস্যরা।
লিখিত বক্তব্যে রুবেল রানা বলেন, ‘তাঁর বাবা মো. আহসান হাবিব বলভা গ্রামের একটি ফসলি জমি কেনেন। এরপর গ্রামের প্রধান নাসির উদ্দিন, আব্দুল মতিন, হালিম হোসেন ও মেহেদী হাসান জমি কিনেছি বিধায় আমাদের টাকা আছে–এমন আবদার জানিয়ে আমাদের ছয় ভাইয়ের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। আমরা সে টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে প্রথমে বিভিন্ন রকম ভয়ভীতি দেখান। এরপরও টাকা না দিলে তারা আমাদের বাড়িতে চড়াও হয়ে ভাঙচুর এবং ফ্রিজ, টিভি, ফ্যান, পানি সেচের দুটি পাম্প, স্বর্ণালঙ্কার, ল্যাপটপসহ আসবাব লুটপাট করেন। একই সঙ্গে তারা আমাদের বসতভিটার সব ঘরে তালা দিয়ে ত্রাসের সৃষ্টি করেন। পরে প্রাণনাশের হুমকি দিলে আমরা ছয়টি পরিবারের ২১ জন সদস্য ভয়ে প্রায় ৬ মাস ধরে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছি।’
রুবেল রানা আরও বলেন, ‘আমাদের পরিবারের দুজন সদস্য ছাবিকুন নাহার মিম ও আরিফা খাতুন নামের দুজন এসএসসি পরীক্ষার্থী তাড়াশে ভাড়া বাসায় থেকে পরীক্ষা দিতে বাধ্য হচ্ছে। স্কুলে যেতে পারছে না আরও তিন শিক্ষার্থী। প্রায় ৯ বিঘা জমির ফসল পেকে গেলেও ঘরে তুলতে পারছি না।’
মাধাইনগর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মক্তার হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি লোকমুখে অনেক আগেই শুনেছি। উনারা তাড়াশ থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। আমার কাছে না আসায় কোনো মীমাংসার উদ্যোগ নিতে পারিনি।
মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে গ্রাম্যপ্রধান নাসির উদ্দিন বলেন, ‘জমিজমা নিয়ে তাদের সঙ্গে আমাদের বিরোধ আছে কিন্তু আমরা কোনো চাঁদা দাবি করিনি।’ লুটপাট প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
এ প্রসঙ্গে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, এজাহার দিলে মামলা নেওয়া হবে। শুনেছি বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার চেষ্টা চলছে।
- বিষয় :
- তাড়াশ
- চাঁদা দাবি
- জমি নিয়ে বিরোধ
