গাইবান্ধায় জলবসন্তের উপসর্গ নিয়ে শিক্ষকের মৃত্যু
ইতিশ চন্দ্র দাস
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬ | ১৪:৪৬ | আপডেট: ০৫ মে ২০২৬ | ১৫:৪৬
গাইবান্ধায় জলবসন্তের (পক্স) উপসর্গ নিয়ে ইতিশ চন্দ্র দাস (৪৫) নামে এক স্কুল শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার রাত ১টার দিকে তিনি নিজ বাড়িতে মারা যান। ইতিশ চন্দ্র সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং খোলাহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের কৃষি বিজ্ঞান বিষয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ওই শিক্ষকের জলবসন্তের উপসর্গ দেখা দেয়। একই উপসর্গ দেখা দেয় স্ত্রী ও দুই সন্তানের। পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেন। পরে রোববার রাতে হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁর মৃত্যু হয়।
ইতিশ দাসের স্ত্রী অর্চনা রানী দাস জানান, কয়েক দিন আগে প্রথমে তাঁর শরীরে জলবসন্তের লক্ষণ দেখা দেয়। চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হলেও পরে তাঁর স্বামীর একই লক্ষণ দেখা দেয়। বুধবার ঢাকায় থাকা তাঁদের বড় ছেলে প্রিমল দাস বাড়িতে এলে তিনিও আক্রান্ত হন। ওই দম্পতির ছোট ছেলে অমৃত দাসেরও (৭) জলবসন্ত হয়।
ইতিশ দাসের সহকর্মী উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, ইতিশ দাস আগে থেকে বড় কোনো রোগে আক্রান্ত ছিলেন না। এই রোগে আক্রান্ত হয়েই তিনি মারা যান।
গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে স্কুলশিক্ষক ইতিশ চন্দ্র দাস জলবসন্তে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
জলবসন্ত মূলত একটি ভাইরাসজনিত ও ছোঁয়াচে রোগ। ভ্যারিসেলা জোস্টার নামক ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি বা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে এই ভাইরাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং সুস্থ মানুষকে সংক্রামিত করে। রোগীর ত্বকের ফোসকা বা ফুসকুড়ির পানি সরাসরি কারও শরীরে লাগলে।
দুঃখ প্রকাশ
প্রতিবেদনটিতে এর আগে গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামানের বরাতে ‘গুটিবসন্তের’ উপসর্গ নিয়ে ইতিশ চন্দ্র দাসের মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য আমরা দুঃখিত। ‘গুটিবসন্ত’ নয়, জলবসন্তে ইতিশ চন্দ্র দাসের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত বাংলাদেশ থেকে গুটিবসন্ত নির্মূল হয়েছে ১৯৭৫ সালে।
