ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

রাজশাহীতে পুলিশের সামনেই টেন্ডার বাক্স ছিনতাই, পরে ফেরত

রাজশাহীতে পুলিশের সামনেই টেন্ডার বাক্স ছিনতাই, পরে ফেরত
×

রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) দপ্তরে পুলিশের সামনেই টেন্ডার বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ছবি- সিসি ক্যামেরা থেকে সংগৃহিত।

রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ | ১৮:৫২

রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’র (আরডিএ) ব্যবহার অযোগ্য মালামাল বিক্রির টেন্ডার বাক্স পুলিশের সামনেই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মী এই কাজ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে দাখিলকৃত টেন্ডার টেম্পারিং করে ঘটনার আধাঘন্টা পরে আবারো বাক্স ফিরিয়ে দেয়া হয়।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অপ্রয়োজনীয় ও পরিত্যক্ত মালামাল বিক্রির জন্য আরডিএ চারটি গ্রুপে দরপত্র আহ্বান করেছিল। গত ২০ এপ্রিল প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির পর ২৭ এপ্রিল থেকে দরপত্র জমা নেওয়া শুরু হয় যা জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারিত ছিল মঙ্গলবার দুপুর ১টা পর্যন্ত। 

বিভিন্ন পুরনো ও অচল মালামাল বিক্রির লক্ষ্যে নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব মালামালের মধ্যে ছিল কয়েকটি শৌচাগারের পুরনো দুটি বিলবোর্ড, আরডিএ পার্কের ছোট-বড় ২৭টি গাছ, ঢাকা লিঁয়াজোঁ অফিসের পাঁচটি সোলার প্যানেল, ১৪টি ব্যাটারি এবং একটি লিফটের ভাঙা যন্ত্রাংশসহ আরও কিছু উপকরণ।

শেষ দিনে সকাল থেকেই বিএনপি-সমর্থিত দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতা-কর্মী পূর্বে জমা পড়া দরপত্র বাতিলের দাবি জানান। তারা চান, শুধুমাত্র ওই দিনের জমা দেওয়া দরপত্রই গ্রহণ করা হোক। তবে আরডিএ কর্মকর্তারা নিয়ম অনুযায়ী সব দরপত্র বৈধ বলে জানালে তারা তা মেনে নেননি।

একপর্যায়ে ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ধলু পুলিশের উপস্থিতিতেই টেন্ডার বাক্সটি তুলে নিয়ে কার্যালয়ের করিডোরে চলে যান। সেখানে বাক্স খুলে আগের জমা দেওয়া দরপত্রগুলো বের করা হয়। পরে তারা দরপত্র টেম্পারিং করে বাক্সটি আবার পুলিশের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সিসি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা গেছে, টেন্ডার বাক্স নেওয়ার পুরো সময়জুড়ে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও তারা কার্যত কোনো বাধা দেননি। ওই সময় সেখানে ওয়ার্ড যুবদলের নেতা শরিফ, সাগর এবং স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মামুনসহ আরও কয়েকজনকে দেখা যায়।

পরে বাক্সটি ফেরত পাওয়ার পর দুপুর আড়াইটার দিকে খোলা হলে সেখানে চারটি গ্রুপে মোট নয়টি দরপত্র পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি গ্রুপে পাঁচটি এবং বাকি তিনটি গ্রুপে চারটি করে দরপত্র ছিল। প্রায় আড়াই লাখ টাকার এসব মালামাল কিনতে প্রায় ৪৫০ জন শিডিউল সংগ্রহ করেছিলেন।

এ বিষয়ে মহানগর যুবদলের আহবায়ক শরিফুল ইসলাম জনি বলেন, এই ঘটনায় যুবদলের কেউ জড়িত আছে কিনা তা জানা নেই। কারা কাজটি করেছে তা দেখা হচ্ছে।
আরডিএর সহকারী প্রকৌশলী শেখ কামরুজ্জামান বলেন, ‘ছিনতাইয়ের আধাঘন্টার মধ্যেই টেন্ডার বাক্সটি উদ্ধার হয়। দুপুরে খোলার পর দেখা যায় বেশ কিছু দরপত্রে কাটাকাটি করা হয়েছে।’

আরডিএর সহকারী প্রকৌশলী কাজী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘পুলিশের সামনেই টেন্ডার বাক্স নিয়ে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। সেগুলো পুনরায় যথাযথভাবে বাক্সে রাখা হয়েছে কিনা সন্দেহ রয়েছে। এ ঘটনায় একজন ঠিকাদার দরপত্র বাতিলের দাবি জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।’

টেন্ডারটি বাতিল হবে কিনা জানতে চাইলে আরডিএ’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, ‘এখন নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, ‘দুইপক্ষের ভুল বোঝাবুঝির কারণে বাক্সটি একপক্ষ নিয়ে যায়। পরে আবার তা ফেরত দিয়েছে। আরডিএ কর্তৃপক্ষ মামলা করলে পুলিশ আইনী পদক্ষেপ নেবে।’

আরও পড়ুন

×