টিসিবির পণ্য না পেয়ে খালি হাতে ফিরছেন কার্ডধারীরা
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের বিক্রয় পয়েন্টে কার্ড হাতে পণ্য নিতে সুফলভোগীরাআসা
ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ | ২০:১৭
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবির পণ্য তুলতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নতুন স্মার্ট কার্ডধারী উপকারভোগীরা। প্রখর রোদ ও ভ্যাপসা গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও পণ্য না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন তারা। টানা তিন দিন অপেক্ষার পরও পণ্য না পাওয়ায় উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের প্রায় আড়াই হাজার উপকারভোগীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সরকারি সহায়তা পেতে এমন ভোগান্তি তাদের হতাশ করছে।
এদিকে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা সমন্বয়হীনতার কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে ক্ষোভ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
জানা গেছে, গত এপ্রিল মাসে টিসিবি নতুন করে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে ২ হাজার ৫১৭টি স্মার্ট কার্ড ইস্যু করে। এসব কার্ডের বিপরীতে পণ্য বরাদ্দও দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট ডিলারদের কাছে। সে অনুযায়ী মাইকিং করে পণ্য বিতরণের তারিখ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত দিনে উপকারভোগীরা ডিলার পয়েন্টে এসে কার্ড জমা দিলেও পণ্য পাননি। ডিলারদের দাবি, নতুন কার্ডগুলো এখনও টিসিবির অনলাইন সিস্টেমে সক্রিয় না হওয়ায় পণ্য বিতরণ সম্ভব হচ্ছে না।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের বিক্রয় পয়েন্টে পণ্য নিতে আসা মজিবর রহমান (কার্ড নং-১১৫৮), মিন্নি খাতুন (১৩৩৬) ও মাধব চন্দ্র (০৯৭৭) জানান, ‘প্রায় দুই মাস আগে আমরা কার্ড পেয়েছি। গুরুত্বপূর্ণ কাজ ফেলে তিন দিন ধরে পণ্য নিতে এসে ঘুরছি। কিন্তু বলা হচ্ছে, কার্ড অনলাইনে সাপোর্ট করে না। তাহলে আমাদের ডেকে এনে এই ভোগান্তি কেন?’
নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের ডিলার মালিহা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী হারুন মিয়া বলেন, ‘নতুন কার্ড দিয়ে সার্চ দিলে স্ক্রিনে দেখায়– ‘উপকারভোগীর প্রাপ্যতা নেই, পরবর্তী মাস থেকে পণ্য পাবেন’। শুধু এখানে নয়, পুরো উপজেলাতে একই সমস্যা।’
ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হারুন অর-রশিদ জানান, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন ৪৫০টি কার্ড দেওয়া হয়েছে এবং সেগুলো সক্রিয়ও করা হয়েছে। তবে কেন উপকারভোগীরা পণ্য পাচ্ছেন না– পরিষ্কার নয়।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলারা আক্তার বলেন, ‘এটি উপজেলা বা জেলা প্রশাসনের সমস্যা নয়। টিসিবির রংপুর আঞ্চলিক অফিস থেকে নতুন কার্ডগুলো এখনও সক্রিয় করা হয়নি। আমরা বিষয়টি নিয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। আশা করছি, আগামী মাস থেকে উপকারভোগীরা নিয়মিত পণ্য পাবেন।’
