১১ বছরের মাদ্রাসাছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা
ভিডিও বক্তব্যে দোষ অস্বীকার আসামির, খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ
প্রতীকী ছবি
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ | ২২:২৮
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ধর্ষণের শিকার ১১ বছরের মাদ্রাসাছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় মামলার আসামি মাদ্রাসাশিক্ষক অজ্ঞাত স্থান থেকে ভিডিও বক্তব্য দিয়েছেন। এতে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। আজ মঙ্গলবার ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের দাবি, আসামিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
মামলার আসামি ওই মাদ্রাসাশিক্ষকের আত্মপক্ষ সমর্থনের একটি ভিডিও বক্তব্য আজ সকাল থেকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ৫ মিনিট ৪ সেকেন্ডের ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, তিনি দেশের আইন ও বিচারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে তাকে নিয়ে অপপ্রচার চলছে। তার বিরুদ্ধে অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। মেয়েটি একসময় তার মাদ্রাসায় পড়লেও ঘটনার সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই জড়িত নন। তিনিও চান প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হোক।
ওই শিক্ষক আরও বলেন, ‘দেশের আইন আছে, সে আইন সঠিক অপরাধী যে, তাকে খুঁজে বের করবে। আপনারা অপরাধী খুঁজে বের করার আগেই যদি আমাকে অপরাধী বানিয়ে ফেলেন, তাহলে তো আসল অপরাধী পার পেয়ে যাবে।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মদন থানার এসআই আখতারুজ্জামান বলেন, শিশুটিকে একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা করার পর অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি পরিবার নিশ্চিত হয়ে মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করে। তারপর পুলিশের পক্ষ থেকে শিশুটিকে জেলা সদর হাসপাতালে পরীক্ষা করে অন্তঃসত্ত্বার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়। আসামি মদনের একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষক। তিনি পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, ওই শিক্ষক ২০২২ সালে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে তার স্ত্রীও শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত। মাদ্রাসায় আশপাশে এলাকার মেয়েরা পড়াশোনা করে। অন্তঃসত্ত্বা শিশুটি একই এলাকায় তার নানাবাড়িতে থেকে মাদ্রাসায় পড়ত।
অভিযোগ রয়েছে, ওই শিক্ষক গত বছর নভেম্বরে ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনা কাউকে জানালে হত্যা করা হবে বলে ভয় দেখান। পরে তার আরেক শিক্ষককে ঘটনাটি জানালে মেয়েটিকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়। পাঁচ মাস পার হওয়ার পর মেয়েটির শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেয়। একপর্যায়ে মাকে জানায়, সে মাদ্রাসাশিক্ষকের ধর্ষণের শিকার। এ ঘটনায় গত ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা ওই মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রী বলেন, মেয়েটি পুষ্টিহীনতাসহ শারীরিক বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছে। তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে পুষ্টিকর খাবার ও নগদ অর্থ দেওয়া হয়েছে। তাকে কাউন্সেলিংসহ আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আসামি ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
এদিকে শারীরিক পরীক্ষা করে ছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা চিকিৎসক সায়মা আক্তারকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
- বিষয় :
- নেত্রকোনা
- ধর্ষণ
- মাদ্রাসাছাত্রী
- অন্তঃসত্ত্বা
