হত্যা মামলায় হাজিরা দিয়ে ফিরে আবারও খুনের অভিযোগ
প্রতীকী ছবি
রংপুর অফিস
প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ | ২২:৪৩
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় হত্যা মামলায় হাজিরা দিয়ে বাড়ি ফিরে আবারও প্রকাশ্যে কুপিয়ে একজনকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে আসামিদের বিরুদ্ধে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার বালুয়াভাটা আম্বিয়ারমোড় এলাকায় ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ একজনকে আটক করেছে।
নিহত আরিফুল ইসলাম (২৮) বদরগঞ্জ পৌরসভার পাঠানপাড়া গ্রামের রেজাউল ইসলামের ছেলে। তিনি রিকশাভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
বদরগঞ্জ থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বদরগঞ্জ উপজেলায় গত বছরের ৫ এপ্রিল টিনের দোকানঘর নির্মাণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে লাভলু মিয়া নামের স্থানীয় সক্রিয় এক কর্মী নিহত হন। এ ঘটনায় বদরগঞ্জ থানায় পৃথক দুইটি মামলা করা হয়।
আজ রংপুরের একটি আদালতে হাজিরা দিতে যান দুই মামলার আসামিরা। সেখানে এক মামলার আসামি কলেজপাড়া গ্রামের ফিরোজ হোসেন ওরফে মার্ডার ফিরোজের সঙ্গে আরেক মামলার আসামি পাঠানপাড়ার মমিনুল ইসলামের হাতাহাতি হয়। এতে মমিনুল আহত হন।
আদালত থেকে বাড়ি ফিরে মমিনুল দেশীয় অস্ত্রসহ সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে ফিরোজকে খুঁজতে তার বাড়ি যান। তাকে না পেয়ে ফিরে আসেন।
এদিকে ফিরোজও তার সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ বদরগঞ্জ পৌর এলাকায় মমিনুলকে খুঁজতে থাকেন। একপর্যায়ে পাঠানপাড়া গ্রামের মমিনুলের প্রতিবেশি আরিফুলকে পৌরসভার বালুয়াভাটা গ্রামের আম্বিয়ারমোড় এলাকায় দেখতে পান। তাকে ছুরি দিয়ে উপর্যপুরী কুপিয়ে ফিরোজ ও তার সাঙ্গপাঙ্গ চলে যান। আরিফুলের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন গিয়ে উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন আরিফুল ইসলামের বাবা রেজাউল ইসলাম। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘মমিনুলের বাড়ির পাশে বাড়ি হওয়ায় আমার নিরাপরাধ ছেলেকে প্রকাশ্যে ছুরি দিয়ে কোপায়ে মারছে। আমার ছেলে কোনোদিন কারো দলে যায় নাই, কখনও মারামারিও করে নাই। আমার ছেলে রিকশাভ্যান চালাত। আহা রে! ওরা কেন মারল আমার ছেলেকে? ওরতো কোনো অপরাধ ছিল না।’
বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার বলেন, ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে জামাল হোসেন (২২) নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য আগামীকাল (বুধবার) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।
