হত্যা মামলার আসামি আ.লীগের, প্রত্যাহার চান বিএনপি নেতা
ফরিদপুর অফিস
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ | ০৮:১৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
ফরিদপুরে পাঁচ বছর আগে এক ইতালি প্রবাসীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলা রাজনৈতিক বলে প্রত্যাহারের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ন্যায়বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহতের পরিবার।
গতকাল মঙ্গলবার ফরিদপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে নিহতের মা হালিমা বেগমের পক্ষে লিখিত বক্তব্য রাখেন তাঁর ছোট ছেলে আসাদুজ্জামান। এ সময় নিহতের স্ত্রী শাহীন আফরোজ রোজাসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদি ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০০৪ সাল থেকে ১৮ বছর ধরে হালিমা বেগমের ছোট ছেলে মাসুদ রানা ইতালিতে বসবাস করছিলেন। ২০২১ সালে দেড় মাসের ছুটিতে দেশে আসেন তিনি। ওই সময় গ্রামের দুই পক্ষের বিরোধ মেটাতে উদ্যোগ নিলে পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইমদাদুল হক বাচ্চুর গ্রুপ তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত হয়। এরপর ওই বছরের ১৩ এপ্রিল রাতে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ১৫ এপ্রিল ৩৫ জনকে আসামি করে ভাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা করেন মা হালিমা বেগম।
একই বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর ৩৪ জনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই ফরহাদ হোসেন। অভিযোগপত্রে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইমদাদুল হক বাচ্চুর নেতৃত্বে ও তিনি নিজে কুপিয়ে জখম করেন বলে উল্লেখ করা হয়। মামলাটি ফরিদপুর অতিরিক্ত দায়রা জজের ২য় আদালতে বিচারাধীন এবং ৯ জনের সাক্ষ্য চলমান।
মামলাটি চলতি বছর রাজনৈতিক মামলা উল্লেখ করে প্রত্যাহারের আবেদন করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা, যা গত ৮ এপ্রিল জেলার ‘বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক কারণে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মামলাসমূহ প্রত্যাহার সংক্রান্ত যাচাই-বাছাই কমিটি’র সর্বসম্মতিক্রমে প্রত্যাহারের জন্য সুপারিশ হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়। সুপারিশটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বৃদ্ধা হালিমা বেগম বলেন, আমার ছেলে কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িতও ছিল না এবং বাংলাদেশের ভোটারও ছিল না। এই মামলা কীভাবে রাজনৈতিক মামলা হয়? সরকারের কাছে আমার দাবি– জীবিত থাকতে যেন ন্যায্য বিচারটা পাই। নিহতের ভাই আসাদুজ্জামান বলেন, আমার ভাইকে যারা হত্যা করেছে, তারা আওয়ামী লীগের পদধারী নেতাকর্মী। তারা ভোল পাল্টিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সঙ্গে মিশে এবং তদবির বাণিজ্যের মাধ্যমে রাজনৈতিক মামলা হিসেবে সুপারিশ করিয়েছে।
জানতে চাইলে মামলা প্রত্যাহারের আবেদনকারী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা বলেন, একজন ভালো-মন্দ বলতেই পারে। আবেদনের পরে এটা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থার
রিপোর্টের ভিত্তিতেই সুপারিশ করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি তো আর সারাদেশের মানুষ চিনি না– কে কোন দল করে।
যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিন্টু বিশ্বাস বলেন, নিহতের পরিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আপত্তি জানাতে পারে এবং আপত্তি অনুযায়ী পুনরায় তদন্তে দেওয়া হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- বিএনপি নেতা
