রাজশাহীতে পুলিশের উপস্থিতিতে টেন্ডার বাক্স ছিনতাই
রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দপ্তরে পুলিশের সামনেই টেন্ডার বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েক নেতাকর্মী এ ঘটনা ঘটান বলে অভিযোগ উঠেছে ভিডিও থেকে
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ | ০৯:০৯ | আপডেট: ০৬ মে ২০২৬ | ০৯:৩৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) ব্যবহার অযোগ্য মালপত্র বিক্রির টেন্ডার বাক্স পুলিশের সামনেই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। যুব ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। তবে ছিনতাই করা টেন্ডার টেম্পারিং করে আধা ঘণ্টা পরে আবার ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অফিসের অপ্রয়োজনীয় মালপত্র বিক্রির জন্য গত ২০ এপ্রিল চারটি গ্রুপে দরপত্র আহ্বান করে। এসব মালপত্রের মধ্যে ছিল কয়েকটি শৌচাগারের পুরোনো দুটি বিলবোর্ড, আরডিএ পার্কের ছোট-বড় ২৭টি গাছ, ঢাকা লিয়াজোঁ অফিসের পাঁচটি সোলার প্যানেল, ১৪টি ব্যাটারি, একটি লিফটের ভাঙা যন্ত্রাংশসহ আরও কিছু উপকরণ।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১টা পর্যন্ত শিডিউল জমা দেওয়ার সময় নির্ধারিত ছিল। শেষ দিনে টেন্ডার বাক্সের নিরাপত্তায় পুলিশের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে যুব ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতাকর্মী দরপত্র জমা দিতে এসে আপত্তি তোলেন। তাদের দাবি, আগেই কিছু দরপত্র বাক্সে জমা পড়ে গেছে, যেগুলো বাতিল করে শুধু এই দিনের জমা দেওয়া দরপত্রই গ্রহণ করতে হবে।
এক পর্যায়ে ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ধলু পুলিশের উপস্থিতিতেই টেন্ডার বাক্স তুলে নিয়ে কার্যালয়ের করিডোরে চলে যান। সেখানে বাক্স খুলে আগের জমা দেওয়া দরপত্রগুলো বের করেন। পরে সেগুলো টেম্পারিং করে বাক্সটি আবার পুলিশের কাছে ফিরিয়ে দেন।
সিসি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা গেছে, টেন্ডার বাক্স নেওয়ার পুরো সময় পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও তারা বাধা দেননি। ওই সময় সেখানে ওয়ার্ড যুবদল নেতা শরিফ, সাগর, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মামুনসহ আরও কয়েকজনকে দেখা যায়।
বাক্সটি ফেরত পাওয়ার পর সেটি খোলা হয়। সেখানে চারটি গ্রুপের জন্য মোট ৯টি দরপত্র পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি গ্রুপে পাঁচটি এবং বাকি তিনটি গ্রুপে চারটি করে দরপত্র ছিল। প্রায় আড়াই লাখ টাকার এসব মালপত্র ক্রয়ের জন্য প্রায় ৪৫০ জন শিডিউল সংগ্রহ করেছিলেন।
এ বিষয়ে মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি বলেন, এ ঘটনায় যুবদলের কেউ জড়িত আছে কিনা জানা নেই। কারা কাজটি করেছে তা দেখা হচ্ছে।
আরডিএর সহকারী প্রকৌশলী শেখ কামরুজ্জামান বলেন, ছিনতাইয়ের আধা ঘণ্টার মধ্যেই টেন্ডার বাক্সটি উদ্ধার হয়। খোলার পর দেখা যায়, বেশ কিছু দরপত্রে কাটাকাটি করা হয়েছে।
আরডিএর সহকারী প্রকৌশলী কাজী আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনার পর একজন ঠিকাদার দরপত্র বাতিলের দাবি জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
টেন্ডার বাতিল হবে কিনা জানতে চাইলে আরডিএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শাহমখদুম থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, দুই পক্ষের ভুল বোঝাবুঝির কারণে বাক্সটি একপক্ষ নিয়ে যায়। পরে আবার ফেরত দিয়েছে। আরডিএ মামলা করলে পুলিশ আইনি পদক্ষেপ নেবে।
